আজ ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩১শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

পাকুন্দিয়া ঈদ্গাহ মাঠ কমিটি গঠন করায় এসিল্যান্ডসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এৃম এ হান্নান পাকুন্দিয়া কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সদর ঈদ্গাহ মাঠের পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়নের অভিযোগে কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করায় এসিল্যান্ডসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সাবেক কমিটির সভাপতি মুজিবুর রহমান ও সেক্রেটারি সিদ্দিক হোসেন মাসুদ কিশোরগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে এ মামলা করেন। প্রেক্ষিতে আগামী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে বিবাদীদের।

মামলায় পাকুন্দিয়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো: মামুন সরকারকে প্রধান বিবাদী করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা, পাকুন্দিয়া থানার ওসি, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং তিনজন সাংবাদিকসহ ২৬ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

জানা যায়, পাকুন্দিয়া সদর ঈদ্গাহটি উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে উপজেলা পরিষদ গেইটের বিপরীতে অবস্থিত। ১৯২২ সালে ময়মনসিংহের প্রাক্তন গভর্নর খাঁন বাহাদুর ইসমাইল হোসেন সর্বপ্রথম ঈদ্গাহের জন্য কিছু জায়গা লিখে দেন। বর্তমানে এই ঈদ্গাহের অধিনে দুটি বহুতল ভবন, ৪১টি দোকান, একটি পুকুরসহ প্রায় দুই একর জায়গা রয়েছে। যা থেকে মাসে অন্তত দুই লাখ টাকা ভাড়া আসে। এই ঈদ্গাহের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার ফান্ড রয়েছে বলে জানা গেছে। বড় আয়ের এই ঈদ্গাহটি দীর্ঘদিন ধরে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট ইলেক্ট্ররাল কমিটি দ্বারা মনোনিত ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। এই কমিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় মুসুল্লিরা পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছেন। কিছুদিন আগে ঈদ্গাহের একজন দাতা সদস্য বজলুর রহমান ঈদ্গাহ পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

এ প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া পৌর প্রশাসকে দায়িত্ব দেন। গত ২৬ মে পাকুন্দিয়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ঈদ্গাহ পরিচালনা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলমকে আহ্বায়ক করে ২৬ জনকে দিয়ে একটি আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করে।

সাবেক কমিটির সদস্যরা নতুন আহ্বায়ক কমিটি প্রত্যাখ্যান করে এবং সাবেক কমিটির সভাপতি মো: মুজিবুর রহমান এবং সাবেক কমিটির সেক্রেটারি মো: সিদ্দিক হোসেন মাসুদ বাদি হয়ে কিশোরগঞ্জ সহকারী জজ কোর্ট আদালতে আহ্বায়ক কমিটি বাতিল চেয়ে এবং সাবেক কমিটি পূনর্বহাল চেয়ে আহ্বায়ক কমিটির ২৬ জনকেই বিবাদী করে একটি মামলা করেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদি সাবেক কমিটির সেক্রেটারি মো: সিদ্দিক হোসেন মাসুদ বলেন, ‘ঈদ্গাহ মাঠের কার্যকরী কমিটি ঈদ্গাহ মাঠ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইলেক্ট্ররাল কলেজের (নির্বাচক মন্ডলীর) সদস্যদের দ্বারা তিন বৎসর মেয়াদে ২০২৩-২৬ সাল পর্যন্ত গঠিত হইয়া ঈদ্গাহ মাঠের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। হটাৎ চলমান কমিটির মেয়াদ থাকা সত্বেও গঠনতন্ত্র পরিপন্থি একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন সম্পূর্ণ বেয়াইনি তাই আমরা আদালতের দারস্থ হয়েছি।’

সাবেক কমিটির সভাপতি ও মামলার বাদি মো: মুজিবুর রহমান জানান, ঈদ্গাহের জায়গা জমির মালিক সাধারণ জনগণ তাই এটির রক্ষনাবেক্ষণ এবং দেখাশুনার দায়িত্ব সাধারণ মুসুল্লীদের। উপজেলা প্রশাসন কোনোভাবেই এটির হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

জানতে চাইলে মামলার প্রধান বিবাদী পাকুন্দিয়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো: মামুন সরকার জানান, ঈদ্গাহ মাঠের মুসুল্লিরা একাধিকবার আমার কাছে এসে ঈদ্গাহ মাঠের বিভিন্ন অনিয়মের ব্যাপারে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন এবং ইউএনও বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। যেহতু ঈদ্গাহ মাঠটি পৌরসদরে অবস্থিত তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে দায়িত্ব দেন এটি দেখার জন্য। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আমি একটি কমিটি করে দেই। গত ১৫ বছরের হিসাব দাখিল করার জন্য সাবেক কমিটিকে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়। তারা নতুন কমিটিকে কোনো প্রকার সহযোগিতা না করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে এবং নিজেদের অপরাধ ঢাকতে আদালতের দারস্থ হয়েছে।

এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ঈদ্গাহ মাঠের একজন দাতা সদস্য সাবেক কমিটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। সে প্রেক্ষিতে, সাবেক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং দুর্নীতি অনুসন্ধানের জন্য সাময়িকভাবে একটি আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়েছে। তাছাড়া, সাবেক কমিটি দিয়ে ঈদগাহ মাঠের কার্যক্রম পরিচালনা করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ারও আশংকা ছিল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category