নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০০৪ সালে যখন বন্যা তখন একটু কর্মশিক্ষার খোঁজে কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে গিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে জানতে পারেন বেকার যুবদেরকে সরকার বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে। বিষয়টির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বেকারদের কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়ে “কিশোরগঞ্জ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র” হতে “গবাদী পশু, হাঁস মুরগী, ডেইরী ফার্ম,কৃষি ও প্রাথমিক চিকিৎসার উপর” তিন মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন সফল আত্নকর্মী আমিনুল হক সাদী। সে প্রশিক্ষণলব্দ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজে স্বাবলম্বী হয়ে থেমে যাননি। বেকার যুবদের কল্যাণে নিবেদিত হয়ে পড়েন। সফল আত্নকর্মী থেকে হয়ে উঠেন সফল যুব সংগঠক হিসেবে। ২০১০ সালে জেলায় যুুুব জাগরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন এবং “যুব উন্নয়ন পরিষদ” নামে একটি যুব কল্যাণমূলক সামাজিক সংগঠন তৈরী করে দক্ষ যুব সংগঠক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। ২০২০ সালে এ সংগঠনটিকে কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর নিবন্ধন সনদ প্রদান করে। যুব সংগঠক আমিনুল হক সাদী বর্তমানে তিনি “যুব উন্নয়ন পরিষদের” সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ গুরুদয়াল সরকারী কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে ২০১৯ সালে মাস্টার্স পাস করেন তিনি । সর্বোচ্চ পড়াশোনা করলেও সরকারী চাকুরীর দিকে না থাকিয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রথম দফায় ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ‘সাদী সমন্বিত কৃষি খামার’ গড়ে তোলেন। এরপর তাঁর পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি। বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের ৫ শতাধিক সদস্যের একটি বিশাল টিম সমাজকর্মে কাজ করে যাচ্ছেন। সংগঠনটি সমাজকল্যাণে ও যুব নেতৃত্বে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
যেকেনো দুর্যোগ মোকাবেলায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে পালন করেন অনন্য ভূমিকা। জাতীয় যুব দিবসসহ রাষ্ট্রীয় দিবস সমূহ উদযাপন ও যুব নেতৃত্বে রাখেন বিরাট অবদান। জুলাই বিপ্লব ২০২৪ এ নিজ এলাকার ছাত্র যুবদের মধ্যে ভূমিকা রেখেছেন বিশেষ করে পুলিশের গুলিতে পা হারানো শিক্ষার্থী জুনায়েদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। গুলিবিদ্ধ সমাজকর্মী যুবদল নেতা মাসুম বিল্লাহ, আহত জুলাই যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম নাঈমসহ সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সামাজিক কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ ১০০ শত জন গুনী ব্যক্তিকে সংগঠনটির উদ্যোগে সম্মাননা ক্রেস্টও প্রদান করেছেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত যুব কল্যাণ তহবিল থেকে যুব কার্যক্রমের স্বীকৃতি স্বরুপ সংগঠনটি ২০২৩ সালে অনুদান পেয়েছেন ৪০ হাজার টাকা। এ অনুদানের টাকা দিয়ে “সাদী সমন্বিত কৃষি খামার” প্রকল্পটিকে আরও সম্প্রসারণ করেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুকুরে মৎস্য চাষ ও বিনামূল্যে ৫ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
সাদীর সংগঠনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ৩ হাজার বেকার যুব ও যুব নারীকে প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছেন। তন্মধ্যে ৩ শতাধিক ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করে তোলেছেন। সাদীর প্রচেষ্ঠায় এলাকার ১০জন বেকার যুবকের সরকারী-বেসরকারী চাকুরীতে কর্মসংস্থান হয়েছে। বিদেশে আরও ১০জন বেকারকে কর্মসংস্থানের সহযোহিতা করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ২জন ও প্রকল্পের কাজে ৫জন শ্রমিকের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের ৫ শতাধিক সদস্য সমাজ উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। করোনাকালে ১ হাজার দারিদ্র মানুষকে করোনার টিকা বিনামূল্যে রেজি: করে দিয়েছেন। ১০ হাজার মাস্ক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও বিপুল পরিমান ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। সাম্প্রতিককালে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকাদানের নিবন্ধন করে দিয়েছেন। গ্রামে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে স্বাস্থ্যসেবাও রেখেছেন অনন্য অবদান। কয়েক শতাধিক দরিদ্র ও ৫জন প্রতিবন্ধীদেরকে হুইল চেয়ার প্রদান, ১০জন নারীকে সেলাই মেশিন প্রদানসহ কয়েক লক্ষাধিক নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন। ১০ হাজার শীতার্তদেরকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন। ৫ শতাধিক শিশুকে বিনামূল্যে পাঠদান করে গ্রামীণ পর্যায়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। যুবদের জন্য যুব প্রশিক্ষণ সেন্টার, বয়স্কদের জন্য বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা করেন। ব্যক্তি উদ্যোগে একটি পাঠাগারও প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ পাঠাগারে ৫ হাজার বইয়ের মাধ্যমে উপকার পাচ্ছে গ্রামীণ সমাজ। অবসর সময়ে শিশু থেকে কিশোর বয়স্কসহ সকল শ্রেণি পেশার পাঠকরা বই পড়ে জ্ঞানের আলো বিকিরণ করছেন। এলাকার কৃষকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন কৃষক পার্টনার ফিল্ড স্কুল। এ স্কুলের মাধ্যমে কৃষক কৃষাণীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয়ভাবে বিভিন্ন সভা সেমিনারে ট্রেনিং ওয়ার্কশপে অংশ গ্রহণ করে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন শতাধিক। আন্তর্জাতিক যুব সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ সামিটের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ কান্ট্রি চ্যাপ্টারের অধীনেও যুবদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
আমিনুল হক সাদী স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ে খেলাধুলা, বিতর্ক, রচনা প্রতিযোগিতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করে পেয়েছেন শতাধিক পুরস্কার ও সনদ। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করে ক্রেষ্ট ও তিন হাজার টাকার প্রাইজবন্ড পেয়েছেন। এছাড়াও অনেক সামাজিক সাংস্কৃতিক সাহিত্যিক এবং সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ৫০টি সনদ ও পুরস্কার লাভ করেছেন। যুবকর্মে অনন্য অবদান রাখায় তিনবার জেলায় শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে সম্মাননা সনদও পেয়েছেন। সংগঠনের কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকায় ব্যাপকভাবে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সমাজকর্মী আমিনুল হক সাদীর সফলতা দেখে এলাকার বেকার যুবরাও কর্মসংস্থানের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, “আমিনুল হক সাদীর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘যুব উন্নয়ন পরিষদ’ যুব সমাজের জন্য রোল মডেল। তার কর্মপরিকল্পনা, পাঠাগার নির্মাণ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বেকারদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। আমি তাঁর সার্বিক কল্যাণ কামনা করি।
Leave a Reply