নিজস্ব প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ৭ম শ্রেণির এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থী অপহরণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় করিমগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়রি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনার ১৫দিন পার হলেও অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করতে পারেনি করিমগঞ্জ থানা পুলিশ।
এতে এলাকায় লোকজনের মাঝে শুরু হয়েছে প্রচন্ড ক্ষোভ এবং পুলিশের ব্যর্থতায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার আশোতিয়া পাড়ার বাসিন্দা মো. সাইফুল মিয়ার (৩৮) মেয়ে শারমিন আক্তার সততা (১৪)তার নানার বাড়ি উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের উত্তর গণেশপুর গ্রামের সেখানকার একটি কওমী মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।
দীর্ঘদিন ধরে আশোতিয়া পাড়ার বখাটে, মাদকাসক্ত সাইম (২২) নামের এক যুবক তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও অভিযুক্ত সাইম তার আচরণ থেকে বিরত হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেয় যে, তার প্রস্তাবে রাজি না হলে ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হবে।
গত ২০ জুলাই সকাল ৭টায় শারমিন আক্তার সততা নানার বাড়ি থেকে চামড়াবন্দরে অবস্থিত খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে সাইমসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন সহযোগী তার পথরোধ করে। তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে সাইমের নিজ বাড়ি করিমগঞ্জ উপজেলার আশোতিয়া পাড়াতে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পরিবারটি বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি।
পরে সাইমের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, সাইম সততাকে বিয়ে করতে চায়। বিয়েতে সততার পরিবার সম্মতি দিলেই মেয়েকে ফেরত দেওয়া হবে।
সততার বাবা মো. সাইফুল মিয়া বলেন, ‘‘আমার মেয়ের বয়স মাত্র চৌদ্দ বছর। ছোট মেয়েকে এখনই বিয়ে দিতে চাই না। তাছাড়া ছেলে সাইম বখাটে ও মাদকাসক্ত। সে আমার মেয়েকে অত্যাচার করবে। সংসার টিকবে না।’’
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, সাধারণ ডায়েরি করার পরপরই ভুক্তভোগীকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এদিকে আবার নারী-শিশু ট্রাইবুনালে অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে ও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও ভিকটিমকে উদ্ধারে পুলিশের কাজ অব্যাহত আছে।’’
কিন্তু পুলিশ এটা বললেও স্থানীয় জনমনে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ সঞ্চার হচ্ছে যে, ১৪ বছরের একজন নাবালিকা যার আইনগত বিয়ের বয়স হয়নি তাকে নিয়ে অপহরণ করা ও তাদের কোনো ক্লু খুঁজে না পাওয়ায় এলাকায় মানুষের মাঝে নানা প্রশ্ন উত্থাপন হতে দেখা গেছে। ট্র্যাকিং করে অপরাধীর অবস্থান জানতে না পারা এ যুগের জন্য এটি রহস্যময় বটেই। তাই থানা প্রশাসন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হন সেই চেষ্টায় আসামী ও অপহৃত বালিকাকে উদ্ধার করা প্রয়োজন।
পরম্পরায় লোকমুখে জানা যায় অপহরণকারী আওয়ামীলীগের লোক, এমন কী তার নামে মামলাও ছিল। সে পেশি শক্তির ওপর নির্ভর করে পথ চলে। এ বিষয়টি থানা প্রশাসন যতই মাথায় রাখবেন ততই তাদের জন্য মঙ্গল।
Leave a Reply