নিজস্ব প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জ-(৪, ৫ ও ৬) ৩টি আসনে ২৯ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করেছে শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে প্রথম ধাপে জেলার ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৩টি আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়।
ওই তিনটি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহীন রেজা চৌধুরী হলফনামায় স্বাক্ষর না করায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহিম মোল্লার ১ শতাংশ সর্মথকের ভোটের তথ্য সঠিক না থাকায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবিরের ১ শতাংশ সর্মথকের ভোটের তথ্য সঠিক না থাকায় ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের প্রার্থী খাইরুল ইসলাম ঠাকুরের হলফনামা সঠিক ফরম্যাটে দাখিল না করার কারণে মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতা মো: রুকন রেজা শেখসহ ৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল তাঁর মেরিন আদালতে মামলা সংক্রান্ত তথ্য গোপন ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন (যা নিবন্ধিত নয়) এ.এইচ.এম কাইয়ুমের (হাসনাত কাইয়ুম) ১ শতাংশ সর্মথকের ভোটের তথ্য সঠিক না থাকায় বাতিল ঘোষণা করা হয়। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোঃ রমজান আলীসহ ৬ জনের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য যে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা তাঁর বাবার গড়া জাতীয় দল বিলুপ্ত করে সম্প্রতি বিএনপিতে যোগদান করেন।
কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী নজরুল ইসলাম সম্পদ ও দায়ের তথ্য পূরণ না করায়, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির ডা. মোহাম্মদ হাবিল মিয়ার সম্ভাব্য অর্থ প্রাপ্তি, সম্পদ ও দায়ের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায়, জাতীয় পার্টি মোহাম্মদ আয়ুব হোসেন সম্পদ ও দায় এবং বার্ষিক আয়ের বিবরণীতে তথ্য না দেয়ায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফুল হক জয়ের ১ শতাংশ সর্মথকের ভোটের তথ্য সঠিক না থাকায় বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির প্রার্থী মোঃ শরীফুল আলম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ মূছা খানসহ ৮ জনের মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এ সময় জেলা পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরসেদ আলম, স-স উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাগনসহ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, দুদক কর্মকর্তা, ব্যাংকের কর্মকর্তা, প্রস্তাবকারী, প্রার্থী ও তাদের সমর্থক সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, তিনটি সংসদীয় আসনের সকল স্বতন্ত্র প্রার্থীই তাদের প্রার্থীতা বাতিলে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে আপিলসহ আইনি পদক্ষেপ ও প্রতিকারের শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে গণমাধ্যম কর্মীদের জানান।
Leave a Reply