আজ ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাগলা মসজিদ ভাঙল সব রেকর্ড ১৩ দানবাক্সে প্রায় ১৬ কোটি টাকা

নিজস্ব  প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স থেকে এবারও রেকর্ড পরিমাণ অর্থ মিলেছে।

দিনভর গননা শেষে পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। যা পাগলা মসজিদের ইতিহাসে আগের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
ছয় মাস পর (২৭জুন) শনিবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। পরে সিন্দুকগুলো থেকে বের করা ৪৩ বস্তা ভর্তি টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা মসজিদের দ্বিতীয় তলার মেঝেতে এনে শুরু হয় টাকা গণনার কার্যক্রম।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. কামরুল হাসান মারুফ জানান, এবার সর্বমোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। গণনা করা অর্থ পর্যায়ক্রমে মসজিদের হিসাবভুক্ত করার জন্য রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখায় পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, দানবাক্সের টাকা গণনার কাজে প্রায় ৫৯০ জনের একটি বিশাল দল অংশ নেয়। এর মধ্যে রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যাংকের কর্মকর্তা, শিক্ষক, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, আনসার সদস্যসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে গণনা কার্যক্রম প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে সম্পন্ন হয়েছে।
এবারে গণনায় পাওয়া অর্থ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা ছাড়াও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার।
এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খোলা হলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া গিয়েছিলো।
দানবাক্স খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসনা খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. কামরুল হাসান মারুফসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য : মনোবাসনা পুরনে পাগলা মসজিদে দেশ-বিদেশের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ মানত ও দান করতে আসেন। অনেকে নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দানবাক্সে প্রদান করেন। মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই মসজিদের দানবাক্স থেকে প্রতিবারই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায়, যা দেশের অন্যতম বৃহৎ দান সংগ্রহের নজির হিসেবে বিবেচিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category