ডেস্ক নিউজ : আসন্ন স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে স্কটল্যান্ড থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশের সন্তান আবু মিরনের অংশগ্রহণকে ঘিরে এডিনবরায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উনি এডেনবড়া নর্থার্ন এলাকা এবং এডিনবরা ও লোথিয়ানস ইস্ট অঞ্চল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
এ উপলক্ষে গত রবিবার ‘টুগেদার ফর আবু মিরন’ ক্যাম্পেইন গ্রুপ একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
এডিনবরার গ্রেফ্রাইয়ার্স চার্টারিস সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টি স্কটল্যান্ডের অন্যতম নেতা ইয়ভন রিডলি। তিনি একজন ইসলাম গ্রহণকারী মুসলিম এবং মুসলিম বিশ্বের কণ্ঠস্বরদের মধ্যে একজন অনন্য ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি তিনি একজন আইনজ্ঞ, প্রখ্যাত লেখিকা ও সাংবাদিক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেভিড হেনরি, যিনি আবু মেরনের পাশের এলাকা এডিনবরা নরথ ওয়েস্টার্ন এলাকা এবং এডিনবরা ও লোথিয়ানস ইস্ট অঞ্চল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্কটল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল ড. ওয়ালি তসর উদ্দিন এমবিই, শহিদ চৌধুরী আলহাজ নুনুমিয়া, আলহাজ বেলাল মিয়া, নজরুল ইসলাম, আসাদ্দুর আলী, , মীর শাহজাহান, সাংবাদিক হুমায়ুন কবির, লিটন মিয়া, লুথফর রহমান। ফারহাদ রেজা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথিদের পাশাপাশি আগত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ড: আমিনা জোয়ারদার রফিকুলইসলাম, এ্যডভোকেট মস্তফা মিয়া, রেহনুমা পারভিন, আতাউর রহমান, রুবিউল ইসলাম, হুসেইন মোয়াজ্জেম
খালিদ মিয়া, আলমগীর হোসেন, দুধু মিয়া প্রমুখ।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আদিল তফাদার।
বক্তারা সবাই আবু মিরনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে তাঁর এই মনোনয়নকে গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে আসন্ন স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে আবু মিরনকে সংসদে দেখতে চান এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করতে তারা সর্বদা প্রস্তুত।
আবু মিরন উনার বক্তব্যে উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন “আমি আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি শুধু একজন প্রার্থী হিসেবে নয়, আপনাদেরই একজন মানুষ হিসেবে। আমি আপনাদের কষ্ট বুঝি, আপনাদের সংগ্রাম দেখি, আর আমি জানি, আজ সাধারণ মানুষের জীবন কত কঠিন হয়ে উঠেছে, এবং দিন দিন তা আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে সমৃদ্ধ স্কটল্যান্ডে আমরা ইউরোপের সবচেয়ে বেশি জ্বালানি বিল দিচ্ছি। এটা আমার কথা নয়, এটা Octopus Energy-এর সিইওর কথা। আমাদের চারপাশে তাকালেই দেখি—দ্রব্যমূল্য বাড়ছে, ভাড়া বাড়ছে, বিদ্যুতের বিল বাড়ছে, কিন্তু মানুষের আয় সেইভাবে বাড়ছে না। পরিবার চালানো কঠিন হয়ে গেছে। তরুণরা কাজের নিশ্চয়তা পাচ্ছে না। আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠরা সম্মান নিয়ে বাঁচতে চান, কিন্তু এই সিস্টেম তাদের সেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না। ইমিগ্রেশন নীতিমালাও দিন দিন কঠোর করা হচ্ছে। সত্য কথা হলো, এই সিস্টেম আমাদের জন্য কাজ করছে না। আজকের রাজনীতি সাধারণ মানুষের কথা ভুলে গেছে। বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আসে না। আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষের জন্য, কমিউনিটির জন্য, এবং শান্তির জন্য। আমি ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী হিসেবে আপনাদের সামনে একটি পরিষ্কার বার্তা নিয়ে এসেছি: মানুষ আগে, মুনাফা পরে। আমরা চাই এমন একটি সমাজ, যেখানে শ্রমজীবী মানুষ সম্মান পাবে, যেখানে বাসস্থান হবে অধিকার, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য সময়মত নিশ্চিত হবে, যেখানে তরুণদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে, এবং যেখানে আমাদের কমিউনিটির কণ্ঠস্বর সত্যিকার অর্থে পার্লামেন্টে পৌঁছাবে। আমি যুদ্ধের রাজনীতির বিরুদ্ধে। আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আমি জেন্ডার রিফর্ম রিকগনিশন বিলের বর্তমান প্রস্তাবের বিপক্ষে। আমি মেয়েদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিচ্ছি। আমি সেই রাজনীতির বিরুদ্ধে, যেখানে সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা মানুষের কল্যাণে না গিয়ে অন্য খাতে অপচয় হয়। আমরা চাই শান্তি, ন্যায়বিচার, এবং মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন। স্কটল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্কটল্যান্ডের মানুষের হাতেই থাকা উচিত। জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বরকে সম্মান করতেই হবে। আমরা এমন একটি ভবিষ্যৎ চাই, যেখানে স্কটল্যান্ডের মানুষ নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করবে। আমি বিশেষভাবে বলতে চাই, মূল ধারার রাজনীতিতে আমাদের সংখ্যালঘু কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব খুবই জরুরি। আমাদের অনেকেই সমাজে বড় অবদান রাখছেন, কিন্তু মূলধারার রাজনীতিতে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় না। আমি বিশ্বাস করি, পার্লামেন্টে এমন মানুষ দরকার, যারা শুধু কথা বলবে না, মানুষের পাশে দাঁড়াবে, যারা জনমানুষের কষ্ট বুঝবে, যারা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অভাব ও প্রয়োজন উপলব্ধি করবে। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমি আপনাদের কথা বলব, আমি আপনাদের সমস্যা তুলে ধরব, আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব। বন্ধুগণ, পরিবর্তন হঠাৎ আসে না। পরিবর্তন আসে যখন সাধারণ মানুষ একসাথে দাঁড়ায়, একসাথে কথা বলে, এবং একসাথে সিদ্ধান্ত নেয়। আমি আপনাদের সমর্থন চাই। আমি আপনাদের দোয়া চাই। আমি আপনাদের বিশ্বাস চাই। আসুন, আমরা একসাথে এমন একটি রাজনীতি গড়ে তুলি, যেখানে মানুষের মর্যাদা থাকবে, ন্যায়বিচার থাকবে, শান্তি থাকবে, এবং আমাদের ভবিষ্যৎ আমাদের নিজেদের হাতে থাকবে। আমাকে সমর্থন করুন। ওয়ার্কার্স পার্টিকে সমর্থন করুন। মানুষের পক্ষে দাঁড়ান। পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিন।
সবশেষে তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।
Leave a Reply