ডেস্ক নিউজ : স্কটল্যান্ডের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণ দিন দিন দৃশ্যমান হচ্ছে। আসন্ন স্কটিশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই অগ্রযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন আবু মিরন।
আবু মিরন একজন এডিনবরার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা, পরিচিত কমিউনিটি নেতা ও সক্রিয় রাজনীতিবিদ।
এডিনবড়া ও লোথিয়ান অঞ্চল থেকে আলবা পার্টির প্রার্থী হিসেবে তার নাম এখন স্কটল্যান্ডজুড়ে আলোচিত।

শনিবার ৭ফেব্রুয়ারি ডান্ডির দ্যা ভাইন ভ্যনুতে আলবা পার্টির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে আবু মিরনের নাম ঘোষনা দেয়া হয়। আবু মিরন ২০২৬ সালের স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে এডেনবড়া ও লোথিয়ান অঞ্চল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।
আবু মিরনের জন্ম বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের গাইটাল বাগানবাড়িতে। তিনি কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ভারতের পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার কনসেপ্টসে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। লন্ডনে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির লন্ডন সেন্টার অব ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স অফ বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে আইন বিষয়ে প্রিলিমিনারী ডিগ্রি (এলএলবি প্রিলি) সম্পন্ন করেন, যা তার শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহের প্রতিফলন।
ছাত্রজীবন শেষ করার পর তিনি স্থায়ীভাবে এডিনবরায় বসবাস শুরু করেন এবং গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানেই বসবাস করছেন।
তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা আবু মিরন ছাত্রজীবন থেকেই সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও সংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। তার ধারাবাহিক কাজ ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি স্কটল্যান্ডের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
২০১২ সালে তৎকালীন ফার্স্ট মিনিস্টার অ্যালেক্স স্যালমন্ডের নেতৃত্বে তিনি স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টিতে যোগ দিয়ে মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এসএনপি এডিনবরা ওয়েস্ট এক্সিকিউটিভ কমিটিতে লিয়াজোঁ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পান। স্কটল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে তিনি এসএনপি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০১৫ সালে তিনি এডিনবরায় প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে কমিউনিটি কাউন্সিল নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং লিথ লিংকস কমিউনিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি লিবার্টন অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় স্থানান্তরিত হন এবং ২০১৯ সাল থেকে ওই কমিউনিটিতে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার লক্ষ্যে অ্যালেক্স স্যালমন্ড আলবা পার্টি গঠন করলে তার রাজনৈতিক দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে আবু মিরন দলটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেন। যুক্তরাজ্যে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তিনিই প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশি বলে মনে করা হয়। বর্তমানে তিনি আলবা পার্টির এডিনবরা অর্গানাইজিং সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি দলীয় ভোটের মাধ্যমে তিনি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২২ সালের এডিনবরা সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে তিনি আলবা পার্টির প্রার্থী ছিলেন। ওই নির্বাচনে এডিনবরায় আলবা পার্টির সব প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে তিনি দলের ভেতরে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আলাদা গুরুত্ব অর্জন করেন।
দলের বার্ষিক সম্মেলনে আবু মিরন কনজারভেটিভ পার্টির প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন এবং সরকারের জ্বালানি মূল্য নীতির কড়া সমালোচনা করেন। এসব নীতির সংশোধনের দাবিতে তার উত্থাপিত প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়, যা তাকে আলবা পার্টির একজন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কণ্ঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দাতব্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। সহজ, আন্তরিক ও মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারা ও তাদের সমস্যায় পাশে দাড়ানো ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি কমিউনিটিতে ব্যাপকভাবে পরিচিত । তিনি এডিনবরা রোটারি ক্লাবের সদস্য এবং একজন সফল উদ্যোক্তাও বটে। আলবা পার্টির পাঁচ দফা পরিকল্পনার তিনি দৃঢ় সমর্থক এবং সমাজের সব স্তরে সমতার পক্ষে বিশ্বাসী।
পরিশ্রমী ও নিবেদিতপ্রাণ আবু মিরন জনগণের কল্যাণ, কমিউনিটির নিরাপত্তা এবং বিশেষ করে অভিবাসন নীতিমালা সহজীকরণ ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। এ লক্ষ্যে তিনি সম্প্রতি স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনির প্রতি আরও স্বচ্ছ ও মানবিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে এডেনবড়া ও লোথিয়ান অঞ্চল থেকে আবু মিরনকে আলবা পার্টির একজন প্রার্থী হিসেবে বাছাই করা একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। স্থানীয় ভোটারদের মতে, আমরা একজন যোগ্য ও পরিশ্রমী, জনগণের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ, কমিউনিটির নিরাপত্তায় সংগ্রামী প্রার্থী পেয়েছি। আমরা তাকেই নির্বাচিত করবো এবং অগ্রীম শুভকামনা জানিয়ে তার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করি।
Leave a Reply