আজ ২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জের-২ জমে উঠেছে নির্বাচন, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

এম এ হান্নান পাকুন্দিয়া প্রতিনিধিঃ  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-২ ( কটিয়াদী – পাকুন্দিয়া )আসেন জমে উঠেছে নির্বাচনী উঠান বৈঠক। বিএনপি প্রার্থী এড, জালাল উদ্দীনে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে আলোচনা উঠে এসেছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোড়ল। কটিয়াদি – পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ -২ আসন।

এবার ভোটের সমীকরণ কিছুটা ভিন্ন। কে হবেন এ আসনের প্রতিনিধি, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা এখনো তৈরি হয়নি। দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারা অনেক ভোটার বলছেন, এবার প্রার্থী নয়, প্রতীক দেখেই ভোট দেবেন। আবার কেউ কেউ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক পরিচ্ছন্নতাকে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। অন্য দলগুলোর পক্ষে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন ভোটারদের একটি বড় অংশ। নির্বাচনের আর মাত্র ৭ দিন বাকি থাকলেও এখনো অনেক ভোটার প্রকাশ্যে তাদের পছন্দের কথা বলছেন না। ফলে ভোটের হিসাব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় জটিল হয়ে উঠেছে।

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদি-ুপাকুন্দিয়া) আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩২ হাজার ৫১৬ জন। এখানে ১৭০টি ভোট কেন্দ্র ও ৯৮৮টি ভোট কক্ষ রয়েছে, যার মধ্যে ৫১টি অস্থায়ী। এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন বিএনপি থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কিশোরগঞ্জ জজ কোটের সাবেক পিপি অ্যাড. মো. জালাল উদ্দীন ও জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শূরা সদস্য সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম মোড়ল, জাতীয় পার্টি থেকে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে মো. আফজাল হোসেন ভূইয়া, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীকে জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন থেকে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে আবুল বাশার রেজওয়ান, ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকে নুর উদ্দিন আহমদ নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
জালাল উদ্দীন এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি এর আগে পাকুন্দিয়া পৌরসভার প্রথম প্রতিষ্ঠাতা মেয়র ছিলেন তিনি একজন কিশোরগঞ্জ জজ কোটের দুই বারের পিপি হিসেবেও পরিচিত।

আসনটির বিএনপির প্রার্থী এড জালাল উদ্দীন বলেন, দল থেকে যাচাই-বাছাই করেই প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। জনগণই বিএনপির ও ধানের শীষের শক্তি, এখন আমার জনগণই তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করবে ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোড়ল বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায়, আমরা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে সক্ষম হব। দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে উন্নয়ন, পরিবর্তন ও জনস্বার্থ
সংশ্লিষ্ট নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে আগ্রহ ও কৌতূহল। সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জ ২ আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্ধিসঢ় দ্বতাপূর্ণ ও উত্তেজনাকর। শেষ পর্যন্ত কার দিকে ঝুঁকে পড়ে ভোটারদের রায়-
সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে পুরো কিশোরগঞ্জ ২ পাকুন্দিয়া -কটিয়াদী সংসদীয় এলাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category