নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম। তৃণমূল বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আসনটিতে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও তাকে নিয়ে আস্থা তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচন ও দলের রাজনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলেও আলোচিত হচ্ছে।
শুরুর দিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও দলের একাধিক বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর আলোচনা থাকলেও, জোটগত কারণে জামায়াতের দলীয় প্রার্থী বদল শেষ পর্যন্ত পথের কাঁটা হয়ে উঠতে পারেনি তারা। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানঅভিমান ভুলে ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বিশেষ করে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে এই আসনে ধানের শীষের পক্ষে জনমত ও প্রচার প্রচারণায় হচ্ছে আরও ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। আর এ থেকেই তৈরি হচ্ছে তরুণ ভোটারদের আস্থার প্রতীক ধানের শীষ, জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন মাজহারুল ইসলাম।
এদিকে দলীয় নির্দেশ অমান্য ও গঠনতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক স্পেশাল জজ বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নুকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফলে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিদ্রোহীরাও শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের পক্ষে অরস্থান নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, এই আসনের তরুণ ভোটারদের মধ্যে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাই তাদেরকে নতুন করে আশাবাদী করেছে। তাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (সোস্যাল মিডিয়া) কেউ মিছিল মিটিং ও উঠান বৈঠকে, আবার কেউ কেউ চায়ের দোকানে, রাস্তার মোড়ে তাদের সমর্থনের কথা ও নির্বাচনী প্রচারণার মধ্য দিয়ে প্রকাশ করছে তাদের অভিমত।
তরুণ ভোটারদের মধ্যে হোসেনপুরের হিমেল বলেন, দেশের ৪ কোটি তরুণ ভোটারের মধ্যে আমি একজন ভোটার, জীবনের প্রথম ভোট নিশ্চয়ই কোন অ-পাত্রে দিবো না, দেখে শুনে বুঝেই দিবো। “আমরা শুধু মিছিল-মিটিং শ্লোগান চাই না, আমরা তরুণরা সুনির্দিষ্ট একটা রোডম্যাপ চাই। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশ পরিবর্তনের যে রোডম্যাপ দিয়েছেন, সেটা বাস্তবায়নে মাজহারুল ইসলাম আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধি। তাই, মাজহারুল ইসলাম ও ধানের শীষের প্রতিই আস্থা আমাদের।
শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি শাহীনূর রহমান খান (শাহীন) বলেন, সন্ত্রাস চাঁদাবাজ মুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে মাজহারুল ইসলামের বিকল্প নেই। আমরা দলমত নির্বিশেষে সকলের আস্থা মাজহারুল ইসলামের পক্ষে ধানের শীষের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখ বিপুল ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করবো।

হোসেনপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মানসুরুল হক রবিন জানান, হোসেনপুর উপজেলা জুড়ে এ মুহূর্তে যে নির্বাচনী হাওয়া বইছে তাতে এক কথায় বলতে হয়, মাজহারুল ইসলামের বিকল্প ধানের শীষ, আর ধানের শীষের বিকল্প মাজহারুল ইসলাম। এই কথার ব্যাখা অনেক, আমি ব্যাখা দিতে চাই না শুধু দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভবিষ্যত প্লানকে সফল করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি ও সহযোগী সকল অঙ্গ সংগঠন। গত ২২ জানুয়ারি রাতে ভৈরবে অনুষ্ঠিত পথসভা এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের আগমনের পর নির্বাচনী মাঠে পরিবর্তনের বিষয়টি ভোটারদের মাঝে বারবার উঠে আসছে। পথসভার পর থেকেই উঠান বৈঠকগুলোতে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে, আলোচনা আরও স্পষ্ট হয়েছে, সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে। নারী ভোটাররা তাদের নিরাপদ রাজনীতি ও এলাকার উন্নয়নের প্রশ্নে তারা ধানের শীষের প্রার্থীর প্রতি আস্থা রেখেই বেশি ভরসা করছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধানের শীষের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জেলা বিএনপির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের দুই বারের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার লুনা বলেন, আমি নির্বাচন উপলক্ষে সদরের প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পৌর এলাকার ঘুরে দেখছি শুরুতে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র সহ অন্যান্য প্রার্থীদের ঘিরে যে উৎসাহ দেখা গিয়েছিল, তা দিন দিন ঘন্টায় ঘন্টায় কমে আসছে। বিপরীতে ধানের শীষের পক্ষে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের গণজোয়ার, নির্বাচনী উঠান বৈঠক হয়ে যায় বিশাল সভায় – পথসভা পরিনত হয় জনসভায়। বিশেষ করে তরুণ ও মহিলা ভোটারদের মতে মাজহারুল ইসলাম শুধু দলীয় প্রার্থী নন, তিনি একজন গ্রহণযোগ্য ও ক্লিন ইমেজের রাজনীতিক এবং উনার পাঠ্যবইয়ে শিক্ষার মাপকাঠিটা একটু খাটো হলেও সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষায় রয়েছেন সবার উপরে। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ তাকেই নিরাপদ মনে করেন। তাছাড়া তিনি জেলা বিএনপির টানা তিনবারের সাধারণ সম্পাদক উনার দ্বারা কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল বা উপকৃত নাহলেও বিগত দিনে দলে কিংবা দলের বাইরে কারো ক্ষতি হয়েছে এমন রেকর্ড নেই। তাইতো- উনাকে বিজয়ী করতে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, কৃষকদল ও শ্রমিকদল সহ সকল সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের নিজ খরচে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিজ নিজ এলাকার প্রতিটি পাড়া মহল্লায় ধানের শীষের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম আশফাক বলেন, ধানের শীষের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম প্রায় ৪৫ বছর বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কর্মীদের আগলে রেখেছেন সকল বিপদে আপদে। নির্বাচনের শুরুতে মনোনয়ন প্রত্যাশায় দলের ভিতরে ও বাহিরে দ্বিধা দ্বন্দ্ব ও কিছুটা ষড়যন্ত্র থাকলেও এখন তা একদম পরিস্কার এবং সকল নেতাকর্মীই ধানের শীষের ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। তিনি একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ ক্লিন ইমেজের একজন ভালো মানুষ। তারেক রহমানের উন্নয়নের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে কিশোরগঞ্জ হোসেনপুরকে সন্ত্রাস চাঁদাবাজ ও মাদক মুক্ত একটি আধুনিক নগর উন্নয়নে কাজ করবেন, সেই প্রত্যাশায় মাজহারুল ইসলামের ধানের শীষ আমাদের সবার আস্থা।
প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, কিশোরগঞ্জ-১ আসনটি জেলার মধ্যে অন্যতম ও গুরুত্বপূর্ণ আসন। ভোটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৩৭জন ভোটার রয়েছেন। এই আসনের ভোটারেরা দলমত নির্বিশেষে আমি ব্যাক্তি মাজহারুল ইসলাম ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছেন। আল্লাহর রহমত এবং সকলের দোয়া ও সহযোগিতায় আমি নির্বাচিত হলে এলাকায় স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মান উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবো। এছাড়াও শহরের যানযট, সন্ত্রাসী, মাদক ও চাঁদাবাজী বন্ধসহ কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুরকে শিল্পোন্নত করে নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সহ কিশোরগঞ্জ-১ আসনকে উন্নয়নের রোল মডেলে হিসেবেও রূপান্তরের পাশাপাশি মৃত প্রায় নরসুন্ধা নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।
Leave a Reply