
নিজস্ব প্রতিনিধি : জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চোরাগোপ্তা পথে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবেনা, চব্বিশের যুবকেরা ঘুমিয়ে পড়েনি এখনো জেগে আছে, তার ভোটের পাহারাদারি সে করবে। ‘ছলে বলে কৌশলে যেকোনোভাবে আমাকে জিততে হবে, এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসেন। ওই পুরানা স্লোগান থেকে বের হয়ে আসেন। আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটাও আমি দেবো-এই দিন শেষ। এই দিন আর ফিরে আসবে না। চব্বিশের যুবকেরা জেগে আছে। তার ভোটের পাহারাদারি সে করবে, সাথে সাথে বাকি সকলের ভোটের পাহারাদারিও করবে। কোনো দুর্বৃত্ত এখন আর কারো ভোটে হাত দিতে পারবে না।
৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মোঃ রমজান আলীর সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতি কোনদিকে ইতোমধ্যে আলামত স্পষ্ট। যুব সমাজ সিদ্ধান্ত দিয়ে ফেলেছে, পাঁচ পাঁচটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে বলে দিয়েছে, আমরা ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে। আমরা আগামীর নতুন বাংলাদেশের পক্ষে। আমরা যুবকদের চব্বিশের আকাঙ্ক্ষার পক্ষে। এ রায় তারা দিয়ে দিয়েছে। মায়েরা-বোনেরাও তারা তাদের অপিনিয়ন ব্যক্ত করতে শুরু করেছেন।’
জামায়াত আমীর বলেন, ‘আমার অধিকার মানে এই দেশে মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ১৮ কোটি মানুষের অধিকার। আমরা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ও আমি চাই না। আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে, সে বিজয় আমাদের সবার।’ ‘দল-গোষ্ঠী-পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির কোনো বিজয় আমাদের কাছে নেই। বার্তা আমাদের অত্যন্ত পরিষ্কার। এই পথে পুরনো রাস্তায় যারা হাঁটতে চাইবেন অন্ধকার গলিতে, তাদের রাস্তায় তারা হাঁটুক। আমরা সদর রাস্তায় আলোকিত রাস্তায় হাঁটবো। হাওর ও নদীগুলো আমাদের খাবার জোগাড় দেয়, নদী ও হাওরগুলোকে খুন করা হয়েছে। এগুলোকে আমরা প্রাণ ফিরিয়ে দিতে কাজ করবো, ইনশাআল্লাহ।
আমরা প্রশাসনকে বলবো, আপনারা দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার সাথে, সততা এবং সাহসিকতার সাথে আপনারা নির্বাচনকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালন করবেন। জাতি আপনাদের জন্য দোয়া করবে। ১৮ কোটি মানুষ আপনাদের পাশে থাকবে। আপনারা মেহেরবানি করে কারো কোনো ডাইন-বাম কথা শুনবেন না। আমরা কারো কাছে কোনো আনুকূল্য চাই না। কিন্তু আমাদের কোনো ক্ষতি করতে আসলে, আমরা কিন্তু ছেড়ে দিবো না। তিনি যেই হোন। আমার অধিকার আমাকে রক্ষা করতে হবে।
বক্তব্য শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনের ১১ দলীয় প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। এবং ১২ তারিখ বিজয়ী করতে মা-বোন সহ সকলের সহযোগিতা ও ভোট প্রার্থনা করেন।