নিজস্ব প্রতিনিধি : পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীনে ২০২৫ সালে রেকর্ড উত্তীর্ণ নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে কিশোরগঞ্জ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে। যা দেশের সকল মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের রেকর্ড ভঙ্গ করে গর্ভবতী সেবা ও নরমাল ডেলিভারিতে সুনাম বয়ে এনেছে কিশোরগঞ্জের।
২৫ সালে সর্বমোট ৮৩৮টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হলেও গত অক্টোবরে ৮১টি, নভেম্বরে ১০০টি ও ডিসেম্বর মাসে ৯৭টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়, যা দেশের সকল মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
সাধারণত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের গর্ভবতী নারীরা তাদের নিয়মিত চেক-আপ ও প্রসূতিরা ডেলিভারি করাতে আসেন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে।
তেমনি, পাকুন্দিয়া উপজেলার পুলেরঘাট ঘাগড়া গ্রামের অটোরিকশা চালক সোহেল মিয়া। তার স্ত্রী রাইবা আক্তার (২৩) অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে চিন্তায় পড়ে যান তিনি।
বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য না থাকায় ছুটে আসেন কিশোরগঞ্জের মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রে। গতকাল বুধবার সকালে নিয়ে আসেন কেন্দ্রে দুপুরের দিকে নরমাল ডেলিভারিতে তার স্ত্রীর দ্বিতীয় পুত্রসন্তান হয়েছে। এদিন রাতেই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
অটোরিকশা চালক সোহেল মিয়া জানান, ওই কেন্দ্রে তার বাড়তি কোন খরচ হয়নি। সবকিছুই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে দিয়েছে। এখানে কিছু ঔষধ নাথাকায় বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ কিনতে হয়েছে। নিরাপদে ও কম খরচে সন্তানের জন্ম হওয়ায় বাবা হিসেবে তিনি খুশি।
জানা গেছে, এ কেন্দ্রে সাধারণত নিম্ন আয়ের পরিবারের প্রসূতিরাই আসেন বিনামূল্যে প্রসবের আশায়।
বিত্তবান পরিবারগুলো প্রসবের কষ্ট এড়াতে মোটা অঙ্কের (১৫ থেকে ৩০ হাজার) টাকা খরচ করে প্রাইভেট ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে ডেলিভারি করিয়ে নেন।
কিন্তু, দরিদ্র রোগীদের এত টাকা পয়সা নেই বলেই প্রসবের সময় হলে তারা ছুটে আসেন এখানে। আর বেশি জটিল নাহলে কোন প্রসূতি রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় না, আন্তরিকতার সঙ্গে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন ডাক্তার ও ভিজিটরগণ।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এই কেন্দ্রে গত এক বছরে গর্ভবতী পরিচর্যা সেবা দেওয়া হয়েছে ৮হাজার ২’শ জন নারীকে, প্রায় সাড়ে ৫ হাজার শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসাসহ ঔষধ দেওয়া হয়েছে আর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৮৩৮টি প্রসূতি নারীর স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে, সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে ১২০জন জটিল রোগীকে। তাছাড়া প্রতিদিন অসংখ্য শিশু কিশোরী ও গর্ভবতী মায়েদের পরামর্শ সহ প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করা হচ্ছে। এজন্য পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের জিডি মহোদয় মোবাইল ফোনে প্রসংশা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রসবের পর কোনো জটিলতা না হলে ৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রসূতিকে কেন্দ্রের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
এখানে দক্ষ চিকিৎসক ও ভিজিটর থাকলেও অচেতনবিদ এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সংকটে এক বছরের অধিক সময় ধরে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় কেন্দ্রটি, অচলাবস্থায় পড়ে রয়েছে অস্ত্রোপচারের রুমটি।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. মো: সাইদুল হাসান জানান, এখানে তিনিই একমাত্র চিকিৎসক ও ছয়জন ভিজিটর ডেলিভারির সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকেন। জনবল সংকটের মধ্যেও রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। জনবল চেয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে চাহিদা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমার গেইটের ভিতরে কোন দালাল প্রবেশ করতে পারে না, এরপরও রোগীর স্বজন পরিচয়ে ঢুকে পড়ে এবং রোগীর সাথের লোকজনকে ভূল তথ্য ও ক্লিনিকে বিশেষ সুবিধা দেখিয়ে রোগীকে নিয়ে যান।
আমাদের জনবল সংকট ও দালালের দৌরাত্ম্য দূর করতে পারলে আমাদের সেবার পরিমাণ দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাবে, আমরাও বিশেষ প্রোয়োজনে জটিল রোগীকে সিজারের মাধ্যমে প্রাইভেট ক্লিনিকের মতো সেবা দিতে পারবো।
Leave a Reply