নিজস্ব প্রতিনিধি : নার্সিং কর্মকর্তাদের মৌলিক অধিকারের ৮ দফা দাবিসহ যুক্তিপুর্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে সামনে ঘন্টা ব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করে তারা।
বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) ও বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) এর আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি সদর জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আশেক মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন- সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র স্টাফ নার্স মো: উজ্জ্বল মিয়া, কোষাধ্যক্ষ সিনিয়র স্টাফ নার্স মো: আব্দুল মতিন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও মিডওয়াইফারি প্রতিনিধি সিনিয়র স্টাফ নার্স রেহেনা আক্তার, বিডিএনএ’র সাবেক সভানেত্রী কামরুন্নাহার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র স্টাফ নার্স ওমর ফারুক সহ অনান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন -কিশোরগঞ্জে ডিপ্লোমাধারী নার্স-মিডওয়াইফদের সনদ স্নাতক (পাস) সমমান ঘোষণা এবং সব গ্র্যাজুয়েট নার্সের জন্য প্রফেশনাল বিসিএস চালুসহ আট দফা দাবি জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। বক্তারা আরও জানান, ৪৮ বছরের স্বতন্ত্র নার্সিং প্রশাসনকে ভেঙে অন্য অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নার্সিং খাতকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দেশে ৩ জন চিকিৎসকের বিপরীতে মাত্র ১ জন নার্স বিদ্যমান যা আন্তর্জাতিক মানের সম্পূর্ণ বিপরীত। বিশ্বব্যাপী দক্ষ নার্স ও মিডওয়াইফদের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও দেশে এই খাতের নীতিমালা উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে।
নার্স-মিডওয়াইফদের আট দফা দাবিসমুহ ;- ১.স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে অন্য কোনো অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ বাতিল এবং জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন,
২.প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম, স্ট্যান্ডার্ড সেট-আপ ও ক্যারিয়ার প্যাথ দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়ন,
৩. ৯ম থেকে ৪র্থ গ্রেড পর্যন্ত উচ্চতর পদে ভূতাপেক্ষ প্রমোশন ও সুপারনিউমেরারি পদোন্নতি প্রদান,
৪. নার্সিং সুপারভাইজার ও নার্সিং ইন্সট্রাক্টর পদ ১০ম গ্রেড থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণ,
৫. ডিপ্লোমা নার্স ও মিডওয়াইফদের সনদকে স্নাতক (পাস) সমমান ঘোষণা এবং সব গ্র্যাজুয়েট নার্সের জন্য প্রফেশনাল বিসিএস চালু,
৬. বেসরকারি স্বাস্থ্য ও নার্সিং-মিডওয়াইফারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগবিধি ও বেতন কাঠামো প্রণয়ন, এবং ভুয়া ও অপ্রশিক্ষিত নার্স-মিডওয়াইফদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ,
৭.ঝুঁকিভাতা চালু এবং পূর্ববর্তী সরকারের চাপিয়ে দেওয়া নতুন নার্সিং ইউনিফর্ম বাতিল ও ৮.শয্যা–রোগী–চিকিৎসক অনুপাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স-মিডওয়াইফের পদ সৃষ্টি ও নতুন নিয়োগ।
নেতারা আরও বলেন, তাদের দাবী আদায় না-হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। তারই অংশ হিসেবে আগামী ২ ডিসেম্বর সারাদেশ ব্যাপী বৃহৎ কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানান।
Leave a Reply