আজ ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

নারী কেলেঙ্কারি জানাজানি পলাতক পরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক : কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হেলিশ রঞ্জন সরকারের যৌন লালসার শিকার একই হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারী চামেলি। নারী কেলেঙ্কারির এই ঘটনা প্রকাশে অসুস্থ্যতার অজুহাতে পলাতক রয়েছেন পরিচালক।
২৮ আগষ্ট হাসপাতালের সবার মুখে মুখে একটাই আলোচনা সমালোচনা পরিচালকের নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা ও অসুস্থ্যতার অজুহাতে পলাতক।
ডা. হেলিশ রঞ্জন সরকার পলাতক কিনা সহকারী পরিচালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, না উনি ঢাকায় আছেন।
পরিচালক ডা. হেলিশ রঞ্জন সরকার ভিন্ন ধর্মের হয়েও মুসলিম ওই তরুণীকে চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে মেলামেশায় বাধ্য করতেন। মন চাইলেই ডেকে নিতেন কোয়ার্টারে। হোয়াটসঅ্যাপে দিতেন আপত্তিকর মেসেজ, করতেন ভিডিও কল। এমনকি চামেলি নামে ওই নারী কর্মচারীর স্বামীকে তালাক দিতে অবিরত চাপ দিচ্ছিলেন ডা. হেলিশ, তালাকের কাগজপত্র তৈরি করতেও দিয়েছিলেন দশ হাজার টাকাও। তালাকের পর নিজে মুসলমান হয়ে ওই নারী কর্মচারীকে বিয়ে করবেন বলেও প্রলোভন দেখিয়েছিলেন তিনি।

অনুসন্ধানে ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্যাথলজি ডিপার্টমেন্টের ক্যাশ কাউন্টারে চাকরি করেন চামেলি। প্রথম দেখাতেই কুদৃষ্টি পড়ে বিবাহিত চামেলির দিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা. হেলিশ রঞ্জন সরকারের। এরপর থেকেই চামেলির জীবন দুর্বিসহ করে তোলেন ডা. হেলিশ। প্রায় সময়ই চামেলিকে তার অফিস কক্ষে ডেকে পাঠাতেন, দিতেন নানা রকম কুপ্রস্তাব। চাকরি হারানোর ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে একান্তে সময় কাটাতে চাইতেন।
ভুক্তভোগী চামেলি বলেন, তিনি আমাকে দেখলেই বলতেন তুমি তো অনেক সুন্দর, অমুক-তমুক ইত্যাদি ইত্যাদি। দুইবার আমাদের বাড়ি পর্যন্ত এসেছেন। আসার পর বলেছেন তোমাকে অনেক ভালো লাগে, আমার যে স্ত্রী আছে উনি তো বেশি সুবিধা না। আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। ২৮ বছর ধরে আমি অনেক ভুগছি। আমাকে কষ্ট দেয়, ব্যবহার ভালো না, আমার সেবা করে না। আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হবে। আমি প্রয়োজনে ধর্ম ত্যাগ করবো, ধর্ম কোনো ব্যাপার না, তুমি তোমার ধর্ম পালন করবে। আমি চারপাশে তোমাকে ঘিরে ধরবো। প্রয়োজনে কোটি টাকা কাবিন দিয়ে বিয়ে করবো। এমনকি বাসা বাড়ি সবকিছু করে দেবো। তুমি রাজি হয়ে যাও।

ভুক্তভোগী চামেলি আরও বলেন, আমি যেহেতু একজন আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারী আর উনি একজন পরিচালক, তার কথা যদি না শুনি চাকরিটা থাকবে না বলে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই না বন্দুকের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বলেছেন আমার কাছে বন্দুক আছে আমি যেকোনো সময় যে কাউকে মারতে পারি, এটা কোনো বিষয় না। আমার কিন্তু অনেক ক্ষমতা আছে। যার ফলে আমি কিন্তু অনেক কিছু করতে পারি।

চামেলি বলেন, আমি যেন আমার স্বামীকে ডিভোর্স দিই সেই জন্য আমাকে বিকাশে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন ডা. হেলিশ। মাঝে মাঝে আমার মোবাইল নাম্বারে রিচার্জ দিয়েছেন, হাত খরচের জন্য টাকা পাঠিয়েছেন। আমাকে মাঝে মাঝে ডিউটিরত অবস্থায় ফোন দিয়ে বলতেন আমি একরামপুর আছি, চলে আসো। যাওয়ার পর এপেক্স শোরুমে নিয়ে যেতেন। আর না গেলে আমাকে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মানসিক টর্চার করতেন। মাঝে মাঝে তার সঙ্গে ঘুরতে যেতে বলতেন। যার ফলে আমি ডিউটি করতে পারতাম না, অনুপস্থিত থাকতে হতো। আমার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য সবসময় চাপ সৃষ্টি করতেন আর এ কারণে মাঝে মাঝে মিথ্যা বলতাম যে স্বামীকে ছেড়ে দিয়েছি। তা না হলে চাকরিটা থাকবে না। অনেক দিন ধরেই এভাবে ভুগছি, কারও কাছে বলতেও পারিনি।
ডা. হেলিশের বিচার দাবি করে যৌন হেনস্তার শিকার চামেলি বলেন, উনার মতো মানুষ আমাকে বিয়ের অফার দিয়েছেন। উনি একজন হিন্দু মানুষ, একজন পরিচালক। আমার যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। আমি এলএলবিতে পড়াশোনা করছি। একদিন শুক্রবার ক্লাসে আমার ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে ফোন দিয়ে তার কোয়ার্টারে যেতে বলেন। ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার পর ছেলেকে কিছু খাবার দিয়ে পাঁচশত টাকা দিয়ে বলেন তুমি ওকে নিয়ে একটু ঘুরে ফিরে আসো। পরে আমি চলে আসি। উনার স্ত্রী একদিন আমাদের বাড়িতে এসে চিৎকার চেঁচামেচি করেছেন, গালিগালাজ করেছেন, এলাকার অনেক মানুষকে জড়ো করেছেন। আমার মানসম্মান আর কিছু নাই। আমি তার বিচার চাই।

হেলিশের এই যৌন লালসার সব কথা জানেন তার স্ত্রীও। এমনকি স্ত্রীর কাছে বেশ কয়েকবার হাতেনাতে ধরাও পড়েছেন তিনি। হেলিশের স্ত্রী বলেন, হেলিশ ৪/৫টা মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িত থাকলেও তিনি বারবার বলেন চামেলিকে তার ভালো লাগে। তোমার ব্যবহার ভালো না, চামেলির ব্যবহার ভালো।
চামেলির জন্য বেশ কয়েকবার কিনা উপহার সহ সুগন্ধা থেকে ১৫ হাজার টাকর উপহার কিনে স্ত্রীর কাছে ধরাও খেয়েছেন তিনি। এছাড়াও চামেলি ও ডা. হেলিশের যৌন মেলামেশার অনেক প্রমাণ নিজের কাছে আছে বলেও জানান হেলিশের স্ত্রী।

অভিযোগের এসব বিষয়ে জানতে ডা. হেলিশের সঙ্গে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি বার বার ফোনটি কেটে দেন।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত শর্মার কাছে ডা. হেলিশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
মেডিকেল কলেজের পরিচালকের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ বাক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও গণমাধ্যমে দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের এমন নিউজ প্রকাশিত হয়েছে।ব্যবস্থা নেয়নিয়নি কেউ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category