এম এ হান্নান পাকুন্দিয়া, প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদ্রাসা ও মসজিদের বিপুল পরিমান অর্থ আত্নসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির আহবায়কের বিরুদ্ধে। উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির আহবায়ক মুফতি লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে এই অর্থ আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে সুখিয়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের নামে সরকারি বরাদ্ধের অর্থ আত্নসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত মুফতি লুৎফর রহমান উপজেলার সুখিয়া গ্রামের মৃত আলতাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার আহবায়ক এবং সুখিয়া পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদের ক্যাশিয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত রয়েছেন।
গত ২৩জুন ওই মাদ্রাসা ও মসজিদের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মোঃ আবুল হোসেন ভূঁইয়া কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এ প্রেক্ষিতে ২জুলাই জেলা প্রশাসক অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য দুই মাসের সময় বেঁধে দিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছেন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে চিঠি ইস্যু করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুফতি লুৎফুর রহমান মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার আহবায়কের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে অত্যন্ত সুকৌশলে মাদ্রাসা সুপারকে কিছু না জানিয়ে দুটি শ্রেনী কক্ষ, ২৫ টি ব্যাঞ্চ, ৮ টি টেবিল, ৩টি স্টিলের আলমারী, ২৪ টি চেয়ার এবং ব্যাংক একাউন্টে থাকা দেড় লাখ টাকাসহ বিপুল পরিমান অর্থ আত্নসাৎ করেছেন। এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুখিয়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মসজিদের মুসল্লিদের পক্ষ থেকে বার বার বলা স্বত্বেও আয় ব্যয়ের কোন হিসাব দিছেন না।
আরো জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে মসজিদের উন্নয়নের জন্য টি আর, জেলা পরিষদ ও ধর্ম মন্ত্রনালয় থেকে প্রায় ৮/১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আনা হয়েছে। কিন্তু কোন হিসেব দিতে তিনি রাজি হননি। মাদ্রাসা ও মসজিদ সম্পর্কে উনাকে কিছু জিজ্ঞেস করলেই অসৌজন্যমূলক আচরন করেন।
এ ব্যাপারে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মুফতি লুৎফর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ ভিত্তিহিন এবং উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। অভিযোগকারী আবুল হোসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসের সাবেক সিএ ছিলেন। সেই সুবাদে সমাজে নানা ঘটনার জন্ম দেন তিনি। ওনার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দ্বার করান। যে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে তিনি আমার উপর অভিযোগ দিয়েছেন সেটি দীর্ঘদিন যাবত ঝড়ে বিধধস্ত হয়ে পড়ে বিনষ্ট হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাকুন্দিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো ওমর ফারুক ভূঁইয়া বলেন, প্রাথমিকভাবে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কিন্তু মদিনাতুল উলুম নামে কোন দাখিল মাদ্রাসার অস্থিত্ব খুজে পাইনি। তাছাড়া মসজিদের বিষয়ে এখনও কোন কিছু জানা যায়নি।
Leave a Reply