নিজস্ব প্রতিবেদক : কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় অসহায় আকলিমা খাতুন (৪৫) এর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, এতে আহত হয়েছেন অন্তত চার জন, থানায় অভিযোগ দায়ের।
গত ১২ আগষ্ট বেলা বারোটায় দিকে মারিয়া ইউনিয়নের চরমারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আকলিমা খাতুন জানান, আমি দীর্ঘ দিন যাবৎ আমার ক্রয়কৃত দলিলের চৌহদ্দি অনুযায়ী মাপ যোগ করে দখল নিয়ে ভিটপাকা টিনের একটি চৌচালা ঘরে বসবাস করে আসছি। একই দাগে বিবাদী মোঃ হযরত আলীও কিছু জায়গা ক্রয় করেন আমার অনেক পরে। কিন্তু তিনি ক্রয় করার পর থেকেই আমার জায়গা দখল নিতে মরিয়া হয়ে পড়ে ও আমাকে প্রাণনাশের হুমকি ধুমকি দিয়ে আসছে। সেই সাথে বিবাদী পক্ষ কিশোরগঞ্জ এসিল্যান্ড অফিসে অভিযোগ দায়ের করে।
ঘটনার দিন অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসিল্যান্ড অফিস হইতে লোকজন উক্ত জায়গায় এসে কাগজ পত্র দেখে আমাকে সঠিক বলে উল্লেখ করেন। এসময় পূর্ব হইতে ঘটনাস্থলে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গগন উপস্থিত ছিলেন। এসিল্যান্ড অফিসের লোকজন ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ চলে যাওয়ার পর মোঃ হযরত আলী, আজিজুল হক, মোঃ শাহিন মিয়া, মোঃ শাহজাহান, মাইজুদ্দিন, মোঃ শফিকুল ইসলাম ও মোঃ আব্দুল সহ আরও অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জন দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রে সজ্জিত হইয়া জোরপূর্বক বেআইনীভাবে আমার বাড়ি ঘরে অতর্কিতভাবে আক্রমন করে ঘরের দরজা, জানালা, বেড়ার টিন বাইরাইয়া, কোপাইয়া তচনচ করে ফেলে। আমি ভয়ে ভয়ে ঘর থেকে বের হলে আমাকে চুলের মুষ্টি ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট শুরু করে। আমাকে বাঁচনোর জন্য এগিয়ে আসা মোঃ ফারুক মিয়া, আমার মেয়ের জামাই আকরাম হোসেন ও ইমনকে রক্তাক্ত সহ উপস্থিত গন্যমান্য লোকজন জখম প্রাপ্ত হয়। পরে আরও লোকজন আগাইয়া আসিলে আমাদেরকে খুন করার হুমকি দিয়া আমার গলার স্বর্নের চেইনটি টান দিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাকে ও অন্যান্য জখমীদেরকে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
এব্যাপারে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আকলিমা খাতুনের অভিযোগ পেয়েছি, পরে আবার ঐ পক্ষের হযরত আলীরও একটি অভিযোগ পাই। দুটি অভিযোগেরই তদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Leave a Reply