আজ ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মাধবদীতে জ্যান্ত কই মাছ গলায় ঢুকে কৃষকের মৃত্যু

মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাত:

প্রচন্ড ঝড় বৃস্টির পরে কৃষিজমি থেকে ওজানী কই মাছ ধরার সময় গলার ভেতরে জ্যান্ত কই মাছ ঢুকে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদীর মাধবদীর বালুসাইর গ্রামে। গত ১৭ এপ্রিল বুধবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে নরসিংদী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এর আগে রাত আটটার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদীর বালুসাইর গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকায় প্রচন্ড ঝড় বৃস্টির পর একটি ডোবা সংলগ্ন কৃষিজমিতে ওজানী কই ও অন্যান্য মাছ ধরার সময় কৃষকের গলায় জ্যান্ত কই মাছ ঢুকে যায়। মারা যাওয়া কৃষকের নাম মিয়া চাঁন (৪৮)। তিনি একই এলাকার মৃত তারব আলীর ছেলে।
মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কাওছার আহমেদ বলেন, গলায় জ্যান্ত কই মাছ আটকে কৃষক মিয়া চাঁনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পেয়েছেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মাঝপথ থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে লাশ নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন তাঁর স্বজনেরা। এটি একটি দুর্ঘটনা। এমন মৃত্যু দুর্ভাগ্যজনক।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝড়–বৃষ্টির সময় ডোবার পাশের জমিটিতে মাছ আসে। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে ওই ডোবায় ও কৃষিজমিতে কই মাছ লাফালাফি করছিলো দেখে রাত আটটার দিকে একাই সেখানে হাতদিয়েই কই মাছ ধরতে যান মিয়া চাঁন। এ সময় একটি কই তাঁর হাতে ধরা পড়ে। তবে মাছ রাখার কোনো পাত্র সঙ্গে না থাকায় কই মাছটি মুখে দাঁত দিয়ে কামড়ে আটকে রেখে আরেকটি মাছ ধরার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় কই মাছটি পিছলিয়ে তাঁর মুখের ভেতর ঢুকে গিয়ে গলায় আটকে যায়। প্রথমে তিনি নিজেই চেস্টা করেন মাছটি গলা থেকে খুলতে পরে মাছটি তার গলা থেকে খুলতে না পেরে শ্বাসবন্ধ হয়ে ছটফট করতে থাকলে আশপাশের লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা এসে মিয়া চাঁনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেন। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে স্বজনেরা অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মাহমুদুল কবির বাসার বলেন, গতকাল রাতে মিয়া চান নামের একজন রোগীকে তাঁর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে কি ঘটেছিল তিনি জানেন না।
কৃষক মিয়া চানের দুই ছেলে কাইয়ুম মিয়া ও ইব্রাহীম মিয়া বলেন, গলায় আটকে যাওয়া কই মাছটি বের করে আনা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category