আজ ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মাধবদীতে ৯৩ বার কোরান খতম করে বঙ্গ মাতার ৯৩ তম জন্ম বার্ষিকী পালন

মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা :

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ৮ আগস্ট মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় মাধবদী পৌরসভা ও শহর আ’লীগের আয়োজনে পৌরসভা হল রুমে ৯৩ বার কোরআন খতমের মধ্যদিয়ে ৯৩ তম জন্মদিন পালন করা হয়। বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষে এ দিন মাধবদী পৌরসভা ও শহর আ’লীগের বিভিন্ন কর্মসুচীর মধ্যে ছিলো কোরআন খতম, বঙ্গমাতার জীবনীর ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।
অনুষ্ঠানে মাধবদী শহর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও মাধবদী পৌর মেয়র হাজী মোঃ মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিকের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পাইকারচর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল হাসেম, নরসিংদী সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও পৌরসভার কাউন্সিলর আলহাজ্ব জাকির হোসেন, কাউন্সিলর রাজিব আহাম্মেদ,কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান মনির শাহ্, হেলাল উদ্দীন, হায়দার আলী, গৌতম ঘোষ, দেলোয়ার হোসেন, নওসের আলী, বাবুল ভুইয়া সহ আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় মুরব্বীয়ান।
এ সময় অনুষ্ঠানের সভাপতি মাধবদী পৌর মেয়র হাজ্বী মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিক বলেন, বাঙালি জাতি তথা বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের নেপথ্যের প্রেরণাদাত্রী হিসেবে আজো স্মরণীয় হয়ে আছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা। বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়ার সন্তান। শেখ মুজিব দীর্ঘ আপোষহীন লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ধীরে ধীরে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মহান স্থপতি, জাতির পিতা এবং বিশ্ববরেণ্য রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছিলেন। এই সাফল্য-সংগ্রামের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এই মহীয়সী নারী। বঙ্গবন্ধুর পুরো রাজনৈতিক জীবনে ছায়ার মতো অনুসরণ করে তার প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অফুরান প্রেরণার উৎস হয়ে ছিলেন বেগম মুজিব। বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ ছয়-দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু যখন বার বার পাকিস্তানি শাসকদের হাতে বন্দি, তখন দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা বঙ্গমাতার কাছে ছুটে আসতেন। তিনি তাদেরকে বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা বুঝিয়ে দিতেন এবং লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা যোগাতেন। বিশেষ করে আগরতলা যড়যন্ত্র মামলায় প্যারোলে বঙ্গবন্ধুর মুক্তি নিয়ে একটি কুচক্রী মহল বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল। তখন প্যারোলে মুক্তির বিপক্ষে বেগম মুজিবের দৃঢ়চেতা অবস্থান বাঙালির মুক্তি সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করেছিল। তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এই মহীয়সী নারী ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে খুনি চক্রের বুলেটের আঘাতে নির্মমভাবে শহীদ হন। জাতির পিতার আমৃত্যু সঙ্গী, বাংলাদেশের স্বাধীনতাসহ সব সোনালী অর্জনের নেপথ্য প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব। পরে দিবসটি উপলক্ষে মাধবদী পৌরসভা ও শহর আওয়ামী লীগ আজ মঙ্গল বার বেলা সাড়ে ১১টায় মাধবদী পৌর হল রুমে ৯৩টি কোরআনখানি করেন পরে বঙ্গমাতার স্মৃতিচারণ শেষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category