আজ ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে ১৯ নাম উল্লেখসহ ৮৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ কিশোরগঞ্জে বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।
উল্লেখ্য,গতমঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা পদযাত্রা সহকারে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠ থেকে রথখলা এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে সামনের দিকে যেতে চাইলে বাধার সম্মুখীন হয়ে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তি বাঁধে। পরে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়েন বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রতিবাদে পুলিশও টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ বেধে যায়। শহরের আখড়া বাজার থেকে রথখলা এলাকা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে।
সংঘর্ষের এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফকে প্রধান আসামী করে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আলম, আমিনুল ইসলাম আশফাক, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আলমাসুদ সুমন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ মিয়া, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুজ্জামান পার্নেল, বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক আবু নাসের সুমনসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৬০-৭০ জনকে আসামী করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ দাউদ জানান, বিএনপি’র পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠ থেকে রথখলা ময়দান পর্যন্ত। রথখলা ময়দান পেরিয়ে সামনের দিকে যেতে চাইলে, পুলিশ জনগণের জানমাল ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে নিরাপত্তার কথা ভেবে এতে বাধা দেয়। পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে সামনের দিকে যেতে চাইলে তখনই বিএনপি নেতা কর্মীরা বিনা উস্কানিতে পুলিশের উপর হামলা করে ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়াসগ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল জানান,পুলিশ আমাদের পদযাত্রা মিছিলে বাধা দিলে ধাওয়া পালটা ধাওয়ার সৃষ্টি হয়। এ সময় নির্বিচারে পুলিশ গুলি করে। আমার সামনে গুলিবিদ্ধ হয় বাজিতপুর থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইফতি, নিকলি উপজেলার আহ্বায়ক আলী হোসেন ও যুবদলের রাজন। এবং জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাক আহমেদ শাহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক তারিকুজ্জামান পার্নেল সহ প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ ও আহত হয়। নেতাকর্মীদের গুলিবিদ্ধ ও আহত করে উল্টো আমাদের নামে মিথ্যে মামলা করে পুলিশ, এর জবাব দেওয়ার সময় খুবই সন্নিকটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category