আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

তাড়াইলে মাঠে মাঠে দুলছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন

হুমায়ুন রশিদ জুয়েল ঃ কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে সোনালী ধানের সমারোহ। রোদ আর হিমেল বাতাসে ফসলের মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। এখন ফসলের মাঠ সবুজ বর্ণ থেকে হলুদ বর্ণ ধারন করার অপেক্ষা। আর মাত্র ক’দিনের মধ্যেই কৃষকেরা তাদের ধান কেটে ফসল ঘরে তুলবে। এবার কৃষকরা বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। এদিকে ধান কাটার আগমুহূর্তে ধানের শীষ পরিচর্যায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছেন এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ১০০ হেক্টর এবং অর্জন ১০ হাজার ২৭৫ হেক্টর। এছাড়া কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন কৃষককে বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ, সার, কীটনাশক সহায়তা, সুবিধা ও পরামর্শ কৃষকদের দেয়া হয়েছে। উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের ফসলের মাঠে বোরো ধানের শীষ দোল খাচ্ছে। এবছর নতুন জাতের ধান ব্রি-৮৯, ব্রি৯২, উফসি২৯ জাতের ধান রোপন করা হয়েছে। এছাড়াও ব্রি-২৮,২৯ জাতের ধান কৃষকের মাঠে দোল খাচ্ছে।

জাওয়ার গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ মতিউর রহমান(মাষ্টার) বান্দুলদিয়া গ্রামের আব্দুল গনি শাহ ও শ্রীপুর গ্রামের দোলাল জানান, আমাদের মাঠে সব ধান ফুলে ঝারা দিয়েছে, আর মাত্র ক’দিন পরেই মাঠের অধিকাংশ ধান পাকতে শুরু করবে। এই ধানের শীষ দেখে মনে হয় এবার ফসলের বাম্পার ফলন হবে।

নোয়াগাঁও গ্রামের আসাদ মিয়া বলেন, আমাদের মাঠে প্রচুর পরিমাণ ধান চাষ করা হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বড় বড় ধানের শীষ দেখা যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো সমস্যা না হলে এবছর আশা করছি বাম্পার ফলন হবে।

মোফাজ্জল হোসেন নামের আরেক কৃষক জানান, আমি ৮ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার প্রত্যেকটি খেতে আমার প্রচুর ধানের শীষ দেখা যাচ্ছে। এবছর বাম্পার ফলনের আশা করছি আমি।

রফিকুল ইসলাম জানান, আমার ধান অনেক ভাল হয়েছে। কিন্তু আসছে সামনে কালবৈশাখী ঝড়, এই ঝড়ে যদি কোন ক্ষতি না হয় তাহলে আমি বিঘাপ্রতি ৩৫ হতে ৩৬ মন ধান পওয়ার আশা করছি।

এছাড়া সরোজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়ন ,বান্দুলদিয়া, ঘোষপাড়া, দেওথান, মোল্লাপাড়া, খালপাড়, আড়াইউড়া, চিকনি, গাবতলি, দড়িজাহাঙ্গীরপুর, পাইকপাড়া, নয়ানগর, হিজলজানি বিল, পদ্মা বিল, আগারখাল বাগার বিল, জাওয়ার, ধলা, সেকান্দরনগর, ধামিহা, রাহেলা, হাছলা, রাউতি, মেছগাঁও, সিংধাসহ উপজেলার সব এলাকার মাঠ গুলোতে একি চিত্র দেখা গিয়েছে। বোরো ধানের আবাদ হচ্ছে আর ক’দিন পরেই কৃষক ধান কাটবে এবং বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত ফসল উৎপাদন হবে। উপজেলার ১০ হাজর ১০০ শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এবছর বড় ধরনের ঝড়, বৃষ্টি অথবা শিলাবৃষ্টি না হলে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কাজেই কৃষক সঠিক সময় ফসল কেটে ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category