আজ ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

উদ্ভাবনী কর্মেই ত্রিশালবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া মানবিক ইউএনও’র গল্প

মোঃ আসাদুল ইসলাম মিন্টু, ত্রিশালঃ

করোনা মহামারীর আগে উপজেলা পরিষদের কম্পাউন্ডের ভিতরে পরিত্যাক্ত সরকারী জায়গা ভাড়া নিয়ে ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠা করা হয় ত্রিশাল কিন্ডার গার্টেন নামীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। করোনা মহামারীর সময় ওই কিন্ডার গার্টেনটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তিতে ত্রিশাল কিন্ডারগার্টেনটি পৌর শহরের উজানপাড়া এলাকায় আরেকটি স্থাপনা ভাড়া নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে কিন্ডারগার্টেন কর্তৃপক্ষ। সরকারী ওই জায়গায় একটি স্থাপনাও ছিল পরিত্যক্ত। উপজেলা পরিষদের আশপাশের শিশু শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা দাবী করেন একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আক্তারুজ্জামান ওই সকল অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে ওই পরিত্যাক্ত জায়গাটি কিছু সংস্করণ করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করার উদ্যেগ নেন। নাম দেওয়া হয় উপজেলা প্রশাসন ল্যাবরেটরী স্কুল।

খোজ নিয়ে জানাযায়, উপজেলা প্রশাসনের কম্পাউন্ডের ভিতরে নদীর পাড়ে সরকারী জায়গা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন পূর্বে ব্যাক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ত্রিশাল কিন্ডার গার্টেন। করোনা মহামারীর সময় ওই স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায় ও পরবর্তিতে অন্যত্র এর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা পরিষদের আশপাশের কোমলমতি শিক্ষার্থী, সরকারী কোয়াটারে অবস্থানরত অভিভাবকদের সন্তানদের নিরাপদ ও মানসম্মত লেখা পড়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আক্তারুজ্জামানের উদ্ভাবণীতে চলতি বছরের জানুয়ারীতে প্রতিষ্ঠা করা উপজেলা প্রশাসন ল্যাবরেটরী স্কুল। শুরুতেই তিনটি ক্লাশ চালু করা হয় ওই বিদ্যালয়ে। সুতিয়া নদীর তীর ঘেষে নিরিবিলি মনোরম পরিবেশে নির্মাণ করা এ ল্যাবরেটরী স্কুল প্রতিষ্ঠা শিক্ষার্থী দিয়ে সহযোগীতা করেছেন স্থানীয়রা একই সাথে ইউএনওর এমন মহৎ কর্মকান্ডে তাঁকে সাধুবাদও জানিয়েছেন। সমাজের দানশীল, সমাজপতি, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহয়তায় অল্প সময়ের ব্যবধানে বর্তমানে পূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ল্যাবরেটরি স্কুল। করোনা মহামারীর সময় ত্রিশাল কিন্ডারগার্টেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়া অভিভাবকরা পেয়েছেন যেন শিক্ষার একটি নীড়। নিকটবর্তী আর কোন প্রতিষ্ঠান না থাকায় স্থানীয়দের দাবীও ছিল এখানে একটি প্রতিষ্ঠান করার। যাত্রা শুরুতে হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি থেকে শুরু করে এলাকার সাধারণ শিক্ষার্থীরা অল্প খরচে মান সম্মত লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিদ্যালয়টি জনকল্যাণকর ভূমিকা পালন করবে বলে এলাকাবাসী মনে করেন। তারা এরকম একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পেয়ে আনন্দিত হয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় বিদ্যালয় ও আশপাশের স্থানগুলোতে নেশাখোরদের আখড়া হিসাবে বেশ পরিচিত ছিলো। সন্ধ্যা নামার পরই এলাকার উঠতি বয়সের যুবকরা এখানে নেশার আড্ডায় নিমজ্জিত থাকতো। বর্তমানে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হওয়ায় পুরো এলাকাটি সিসি ক্যামেরায় নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। ফলে এখন আর আগেরমত বাজে আড্ডা হয় না এখানে। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তারুজ্জামান জনসাধারণের সহযোগিতায় এ এলাকাটি মদকমুক্ত ঘোষণা করেন।

একই সাথে ল্যাবরেটরি স্কুলের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে ইউএনও ফুটবল ও ক্রিকেট একাডেমী, রয়েছে ত্রিশাল প্রেসক্লাব ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী। পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে দুখু মিয়া শিশু পার্ক ও ইউএনও মুক্ত মঞ্চ। সাথে রয়েছে ক্ষুদে খেলোয়ারদের অনুশীলনের জন্য একটি মাঠও। সবমিলিয়ে উপজেলা পরিষদের এ এলাকাটি এখন আলোকবর্তিকা হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রশাসন ল্যাবরেটরী স্কুলটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন সরকার, ত্রিশাল পৌর মেয়র এবি এম আনিসুজ্জামান, উপজেলা পরিষদের ভাইরাস চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির আকন্দসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তারুজ্জামান বলেন, উপজেলা পরিষদের আশপাশের এলাকার কোমলমতি শিশুদের মান সম্মত লেখা পড়ার মান উন্নয়নের লক্ষ নিয়ে জনকল্যাণকর হিসেবে উপজেলা প্রশাসন ল্যাবরেটরী স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়াও জনকল্যাণকর হিসেবে ইউএনও ফুটবল ও ক্রিকেট একাডেমী, দুখু মিয়া শিশু পার্ক, শেখ রাসেল বটতলা, ইউএনও মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category