আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ডায়মন্ড, বৈদেশিক মুদ্রা স্বর্ণালঙ্কারসহ ৪ কোটি ১৮ লাখ

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে মিলল রেকর্ড পরিমাণ ছোট বড় ২০ বস্তা টাকা গণনার পর এবার মিলল ৪ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকাসহ বেশ কিছু বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ও রূপার ভিন্ন ভিন্ন অলংকার ও একটি ডায়মন্ড।

শনিবার (৭ জানুয়ারি) সকালে মসজিদের আটটি দান সিন্দুক খোলার পর শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনার কাজ। আর এ টাকা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গোনার কাজে অংশ নেয় ব্যাংক, মসজিদ-মাদ্রাসা ও এতিমখানার কয়েকশ কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থী।

টাকা গণনা কাজ তদারকি করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, নির্বাহী ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম, নির্বাহী ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেট আ‌জিজ আহ‌মেদ, নির্বাহী ম‌্যা‌জি‌স্ট্রেট না‌বিলা‌ ফের‌দৌস ও আ‌জিজা সুলতানা, মসজিদ কমিটির সদস্য সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু, ও মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শওকত উদ্দিন ভূঞা, মুক্তিযোদ্ধা জেলার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদ উল্লাহ ও রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখসহ আরও অনেকেই।
দিনব্যাপী টাকা গণনা কাজ পরিদর্শন করেন পাগলা মসজিদের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।

এর আগে ২০২২ সালের (০১ অক্টোবর) শনিবার মসজিদের দানবাক্স খুলে মিলল রেকর্ড পরিমাণ ছোট বড় ১৫ বস্তা টাকায় পাওয়া যায় ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৮২ টাকাসহ বেশ কিছু বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার।

মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা যায় -সাধারণত তিন মাস পর পর দান সিন্দুক খোলা হয়। এবার তিন মাস ছয় দিন পর আটটি দান সিন্দুক খোলা হলে তাতে মিলে ছোট বড় ২০ বস্তা টাকা। যা গণনার পর এবার মিললো ৪ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকাসহ বেশ কিছু বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ ও রূপার ভিন্ন ভিন্ন অলংকার।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই মসজিদের প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনেক কাহিনী প্রচলিত আছে, যা ভক্ত ও মুসল্লিদের আকর্ষণ করে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে, এখানে মানত করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। আর এমন ধারণা থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এখানে দান করে থাকেন।
সূত্রমতে, একসময় এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বাস ছিল কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝপথে প্রবাহিত নরসুন্দা নদের মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা উঁচু টিলাকৃতির স্থানটিতে।
মুসলিম ও হিন্দু-নির্বিশেষে সব লোকজনের যাতায়াত ছিল ওই সাধকের আস্তানায়।ওই পাগল সাধকের দেহাবসানের পর তার উপাসনালয়টিকে কামেল পাগল পীরের মসজিদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করে এলাকাবাসী। কিন্তু; ওই সাধকের দেহাবসানের পর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে এলাকা এমনকি দেশের দূর-দূরান্তের লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। মানত কিংবা দানখয়রাত করলে মনোবাসনা পূরণ হয় এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন বয়সের হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ মানত নিয়ে আসেন এই মসজিদে। তারা নগদ টাকা-পয়সা,স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি দান করেন।বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার এ মসজিদে মানত নিয়ে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের ঢল নামে। আগতদের মধ্যে মুসলিমদের অধিকাংশই জুমার নামাজ আদায় করেন এ মসজিদে। আর এ ইতিহাস প্রায় আড়াইশ বছরেরও অধিক সময়ের বলে জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category