আজ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আছিয়া দম্পতির পাকাঘর উদ্বোধন,পেলেন এক মাসের খাবার ও শীতবস্ত্র

সঞ্জিত চন্দ্র শীল হোসেনপুর : গত বছরের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘একটি ঘরের জন্য আকুতি আছিয়ার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী কৃষিবিদ মসিউর রহমান হুমায়ুন এর।পরে তিনি বিস্তারিত খোজ খবর নিয়ে অসহায় এ পরিবার টির থাকার জন্য পাকা ঘর করে দেয়ার দ্বায়িত্ব নেন।সেই আছিয়া -খেলু ফকির দম্পতির পাকা ঘর নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার দুপুরে এ পাকা ঘর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মসিউর রহমান হুমায়ুন।
এ সময় আছিয়া ও খেলু ফকির দম্পত্তির এক মাসের খাবার বাবদ চাল,ডাল,তেল,চিনি সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও দেয়া হয়।পাশাপাশি কনকনে শীতে যেন কস্ট করতে না হয় সেজন্য শীত নিবারণে ২ টি কম্বল ও
উপহার দেন কৃষিবিদ হুমায়ুন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া পারভেজ,উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোহেল,
উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলাম নুরু মিয়া,সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোবারিছ প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌর আওয়ামী লীগ ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় কৃষিবিদ মসিউর রহমান হুমায়ুন বলেন,’হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের গকুলনগর গ্রামের আছিয়া বেগম ও তার স্বামী খেলু ফকির অসহায় অবস্থায় দিনানিপাত করছেন।তাদের থাকার জন্য একটি ভাল ঘর নেই।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ও উদ্যেশ্য,মুজিব বর্ষে গৃহহীন- ভূমিহীন থাকবে না কেউ।এরই প্রেক্ষিতে আমি নিজ উদ্যোগে এ অসহায় পরিবার টি ভাল ভাবে থাকার জন্য পাকা ঘর করে তাদের থাকার ব্যাবস্থা করছি’।
জানা যায়,কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের গকুলনগর গ্রামের আছিয়া বেগমের ৪ শতক ভিটেবাড়ী ছাড়া নেই কোনো সম্বল। আছিয়া তার স্বামী জয়নাল আবেদীন খেলু ফকির কে নিয়ে খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন।
বৃষ্টি এলেই বাড়ে দুর্ভোগ, টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে ভেসে যায় ঘর। কালবৈশাখী ও ভারী বৃষ্টি হলেই অসহায় দম্পতি ছুটে যান অন্যের ঘরে।
জয়নাল আবেদীন খেলু ফকির আগে পাড়ায় পাড়ায় কটকটি বিক্রি করতেন।কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। তেমন কোনো কথা না বলতে পারলেও শেষ জীবনে একটি ঘরের আকুতি জানিয়েছেন।
আছিয়া বেগম বলেন, জীবনের ৫০ টা বছর স্বামীর সাথে এমন ভাঙ্গা ঘরে কাটাইছি। এখন শেষ বয়সে থাকতে খুবেই কষ্ট হয় ৷প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী কৃষিবিদ মসিউর রহমান হুমায়ুন আমাদেরকে থাকার ঘর করে দিয়েছেন,আমাদের খাবারের ব্যাবস্থা করেছেন,শীত্রবস্ত্র দিয়েছেন,আল্লাহ উনার মঙ্গল করুন সেই দোয়া করি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category