আজ ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

মাধবদীতে মাদ্রাসার বাথরুমে মিললো ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ।। পরিবারের দাবী হত্যা

মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) প্রতিনিধিঃ

দেড় মাসের মাথায় ফের একই মাদরাসায় আরেক শিক্ষার্থী ১০ বছরের শিশু মাইশার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটলো। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল ১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে নরসিংদীর মাধবদী শেখেরচর কুড়েরপাড় জামিয়া ক্বওমিয়া মহিলা মাদরাসায়। গত ১৯ অক্টোবর ঔই মাদরাসার টয়লেট থেকে আফরিন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত আফরিন সদর উপজেলার শেখেরচর জামিয়া কওমিয়া মহিলা মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের ছাত্রী এবং মাধবদীর দড়ি গাজীরগাঁও গ্রামের ডালিম মিয়ার মেয়ে। দেড় মাস না পেরোলেও গতকাল ১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার একই স্থানে একই ঘটনায় মাত্র ১০ বছরেই থেমে গেলো দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু মাইশার জীবন। মাইশা নরসিংদীর মাধবদী কুড়েরপাড় গ্রামের জামিয়া ক্বওমিয়া মহিলা মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাধবদী ভগীরথপুর গ্রামের মোঃ নেছারউদ্দিনের মেয়ে মাইশা। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি গতকাল ১ ডিসেম্বর বিকালে মাদরাসার বাথরুম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় শিশু মাইশার মরদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় শিক্ষকরা। অন্যদিকে শিশু মাইশার পরিবারের দাবি মাইশাকে হত্যা করে তারপর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। মাইশার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবী করেন। জামিয়া ক্বওমিয়া মহিলা মাদরাসার মুহতামীম মুফতি আসানউল্লাহ বলেন আসরের নামাজে সময় অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এস্তেঞ্জা করতে গিয়ে মাইশাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে ডাক চিৎকার করলে মাদরাসার হুজুর ও খাদেম আমাকে ঘটনা বললে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইশার ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে দেখতে পাই। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে জানান। মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সামছুল আলম বকুলের কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি সেই সময় শেখেরচর হাটে ছিলাম। শিক্ষকরা আমাকে ফোন দিয়ে জানায় একজন ছাত্রীকে মাদরাসার বাথরুমে ঝুলন্ত অবস্থায় পায়। পরে তারা হাসপাতালে নিয়ে যায় ও মেয়েটির মৃত্যু হয়। তবে ঘটনাটি কিভাবে ঘটলো তা আমরা বলতে পারছিনা। ঘটনা সম্পর্কে শিশু মাইশার চাচা মাওলানা মোছলেহ উদ্দিন জানান মাইশার বাবা নেছারউদ্দিন সকালে মেয়েকে মাদরাসায় গিয়ে নাস্তা করিয়ে রেখে আসে। পরে দুপুরে পারিবারিক একটি দাওয়াতে মাইশার পরিবারসহ আমরা আত্মীয়র বাড়িতে যাই। সেখানে বিকাল ৪টার দিকে মাদরাসার হুজুরদের ফোন থেকে কল করে জানানো হয় আপনার মেয়ে অসুস্থ। তাকে আমরা নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসছি আপনারা আসেন। পরে আমার পরিবারের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে দেখতে পাই মাইশা মৃত। কর্তব্যরত ডাক্তাররা জানায় মাইশাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে।  মাইশার চাচা আরো বলেন নিহতের শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ১০ বছরের শিশু বাচ্চা কিভাবে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করতে পারে? নিশ্চয় তাকে হত্যা করা হয়েছে। মাইশার ফুফা আইনুল হক জানান আমরা খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে মাইশার শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম দেখতে পাই। দেখেই বুঝা যায় এটা একটি হত্যা। আমরা এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই। নিহত মাইশার মা বলেন আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তার সারা শরীরে মাইরের চিহ্ন রয়েছে। আমি খুনের বিচার চাই। মাদরাসার হুজুররাই এই ঘটনার সাথে জড়িত। আমি এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
নিহতের বাবা নেছার উদ্দিনও তার মেয়ের হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেছেন। রাতেই নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ ও মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঘটনা সম্পর্কে মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রকিবুজ্জামান মুঠোফোনে জানান আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শণ করেছি। এখন ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পর প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেলো ৭ ফুট উচু পাইপে ওড়না ও গামছা বেঁধে ফাঁসি নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। প্রায় ৩ ফুটের শিশু ৭ ফুট উচু পাইপে ওড়না, গামছা বাঁধলো কিভাবে আর নিজে নিজে ফাঁসি নিলো এটা কিভাবে সম্ভব এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের। ১০ বছরের শিশুর “হত্যা না আত্নহত্যা” এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category