আজ ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৬শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

“ভৈরবে গৃহবধুর মৃত্যুতে ধুম্রজাল জনমনে” স্বামীসহ আটক ৩

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তানজিনা ইসলাম (২৭) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুতে রহস্য/ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে জনমনে, স্বামীসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ভৈরব বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তানজিনা ইসলাম (২৭) ভৈরব বাজার এলাকার ফার্মেসী (ঔষধ ব্যবসায়ি) মাসুদুজ্জামানের স্ত্রী।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহবধূর স্বামী মাসুদুজ্জামান (৩৭), শ্বশুর হাজি আবুল খায়ের (৭০) ও দেবর তোফাজ্জল হোসেনকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।
নিহত তানজিনা ইসলামের বড় ভাই মাহমুদুল ইসলাম রাসেল বাদী হয়ে রাতেই ভৈরব থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটা হত্যা মামলা দায়ের করে। এরমধ্যে ৩ জন আটক রয়েছে।
ভৈরবপুর চন্ডিবের উত্তরপাড়ার নিহত তানজিনা ইসলামের বড় ভাই মাহমুদুল ইসলাম রাসেল কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের জানান, এটি আত্মহত্যা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। ওরা আমার বোনকে মেরে তিনতলা হতে নিচে ফেলেদিয়ে হত্যা করে। আসেপাশের সিসি ফুটেজ ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমি সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব বাজার বাতাসাপট্টি এলাকায় মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে তানজিনা ইসলাম (২৭) ও তার স্বামী
মাসুদুজ্জামানের(৩৭) মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে তানজিনা ইসলাম ভবনের তিনতলা থেকে মাটিতে পড়ে যায়।
পরে স্বামী, শ্বশুর, দেবর মিলে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তানজিনা ইসলামের মরদেহ রেখে পালিয়ে যেতে চাইলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন নিহতের স্বামী, শ্বশুর ও দেবরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ সাপেক্ষে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে লাশ ময়নাতদন্তের পর দাফন-কাফনের জন্য  নিহতের বড় ভাইয়ের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
নিহত তানজিনা ইসলামের আরো জানান, পারিবারিক ভাবে ২০১২ সনে বিবাহ হয় ভৈরব বাজার বাতাসাপট্টি এলাকার ঔষধ ব্যবসায়ি মাসুদুজ্জামানের সাথে। বিয়ের পর থেকে সুন্দরভাবেই চলে তাদের সংসার, কিন্তু মাঝে-মধ্যেই বিপত্তি ঘটে শাশুড়ির নির্যাতন এবং শাশুড়ির প্ররোচনায় স্বামীর অবহেলা ও শারীরিক নির্যাতন। সবকিছু মূখবুঝে সহ্য করেও শেষে আর ঠিকতে পারেনি সংসার জীবনে, চলে যেতে হলো পরপারে। এদিকে তাদের সংসারে ১০ বছরের ছেলে মোঃ তাহমিদ ও ৫ বছরের মেয়ে মোছাঃ তাসনিম নামে দুটি সন্তান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category