করিমগঞ্জে জমি সংক্রান্ত জেরে সংঘর্ষ ‘আশঙ্কাজনক নারীসহ আহত ৬ জন

করিমগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ৬ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকাল ৭ টায় কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের বন্দে গো-মরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। সোমবার, ১৪ মার্চ বিকালে বন্দে গো-মারা গ্রামের শাহ জাহানের স্ত্রী নূর জাহান বাদী হয়ে একই গ্রামের ইসমাহিলের ছেলে শামছুল হক (৫২), প্রধান আসামী করে অজ্ঞাত ৫ জনসহ ১১ জনের নামে করিমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

অপরদিকে মহিউদ্দিন বাদী হয়ে ১৩ মার্চ একই গ্রামের মৃত আঃ গণির ছেলে আলম (৩২) প্রধান আসামী করে অজ্ঞাত ৬ জনসহ ১৩ জনের নামে করিমগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

সংঘর্ষে নূর জাহানের পক্ষের রিপন, আঃ মালেক ও নাবিবা আহত হয়েছেন। নূর জাহান, রিপন ও আঃ মালেক কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নাবিবার অবস্থা আশঙ্খাজনক থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

অপরদিকে মহিউদ্দিনের পক্ষে তাসলিমা আক্তার, জুইফা আক্তার ও রেখা আক্তার আহত হয়েছেন। তাসলিমা ও রেখা আক্তার কিশোরগঞ্জ সদর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন।

করিমগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, ১১ মার্চ সকালে ৯৯৯ এ ফোন দিলে করিমগঞ্জ থানার এ এস আই আরিফুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে করিমগঞ্জ থানায় পৃথক পৃথক মামলা গ্রহন করেন।

মহিউদ্দিনের পক্ষের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই সিরাজুল হক চৌধুরী বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। বাদী পক্ষের যারা আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন তাদের মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নূর জাহানের পক্ষের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সা-ইন্সপেক্টর মোঃ আনিসুজ্জামান লিংকন বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বাদী পক্ষের তিনজন চিকিৎসাধীন আছে। তাদের মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নূর জাহান বলেন, শামছুল হক, দুলাল, হাফিজ উদ্দিনগং আমার প্রতিবেশী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাথে আমার জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের জেরে জমি সংক্রান্ত আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সম্প্রতি ঘটনার দিন তারা আমার জমি জোর করে দখল করতে চায়। আমি তাদের বাধা দিলে আক্রোশবসত আমাদেরকে ফাঁসাতে তারা তাদের নিজ ঘরে আগুন দেয়, যা আমার প্রতিবেশী সকলেই সাক্ষী আছে। আমি এ ঘটনায় থানা মামলা করেছি।

মহিউদ্দিন বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটনার দিন নুরজাহান স্বদলবলে আমাদের উপর আক্রমন চালায় এবং আমার ঘরে তারা আগুন দেয়। আমি এ ঘটনায় করিমগঞ্জ থানায় মামলা করেছি।

গুজাদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হান্নান মোল্লা বলেন, নুর জাহানগং ও মহিউদ্দিনগংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আমরা বেশ কয়েকটি দেন-দরবার করেছি। বিজ্ঞ গ্রামবাসিদের নিয়ে এর একটি সমাধানও আমরা দিয়েছিলাম। কিন্তু কি যেন অজ্ঞাত কারণে মুহিউদ্দন সে সমাধান মেনে নেয়নি। আর ঘটনার দিন মহিউদ্দিন প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই নিজে নিজের ঘরে আগুন লাগিয়েছে।

এ বিষয়ে বন্দেগোমরা গ্রামের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আলী বলেন, ঘটনার দিন সকালে আমি জমিতে কাজ করছিলাম। তখন লোকজনের ডাক চিৎকারে ঘটনাস্থলে হাজির হই এবং দেখি মহিউদ্দিনের ঘরে আগুন জ্বলছে। তখন গ্রামবাসি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে মহিউদ্দিনগং আমাদের বাঁধা দেয় এবং আমাদের উপর ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। তখন সকলের উপস্থিতে জানতে পারি মহিউদ্দিন গংরাই প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজেরাই নিজের ঘরে আগুন লাগিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *