মাধবদীতে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান সম্পর্কে আলোচনা সভা

মোঃ আল আমিন, মাধবদী, (নরসিংদী) সংবাদদাতা ঃ

মহান স্বাধীনতার সুুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে “মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান” সম্পর্কে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে আাজ ১ মার্চ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় মাধবদী ম্যানচেস্টার চত্তরের মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে। মাধবদী পৌরসভার আয়োজনে মাধবদী শহর তথ্য ও সংস্কৃৃতি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সহযোগীতায় “মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান” শির্ষক আলোচনা সভায় মাধবদী পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মনিরুজ্জামান মনির শাহ এর সভাপতিত্তে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মাধবদী পৌর মেয়র হাজ্বী মোঃ মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিক এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সেক্টর কমান্ডার ফোরাম ৭১ এর সভাপতি ও নরসিংদী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আলহাজ্ব মোতালীব পাঠান। উপস্থিত ছিলেন মাধবদী পৌরসভার ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পিয়ারা বেগম, ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি হাসান আলী, নরসিংদী সদর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সদস্য সাংবাদিক নজরুল ইসলাম, সদস্য সাংবাদিক মোঃ আল আমিন, সদর উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সহ আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা। এসময় বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। তিনি আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক। মুক্তির দিশারি। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে কখনও বিচ্ছিন্ন করে ভাবা যায় না। তিনিই ছিলেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান কান্ডারি। তার ডাকেই আমরা যুদ্ধে গেছি। তার নামেই আমরা যুদ্ধ করেছি। স্বাধীন বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের এক মহান নায়ক তিনি। বাঙালি জাতীয়তাবাদের শ্রেষ্ঠতম প্রবক্তা। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস ও সংগ্রাম তিনি নিজের চেতনায় লালন করেছেন। তিনি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয় আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক। তিনিই আমাদের শিরায়-উপশিরায় জাতীয়তাবাদের মূলমন্ত্রকে সঞ্চারিত করেছেন। অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদের এক আপসহীন সংগ্রামী নেতা তিনি। আমাদের বিস্মৃত জাতিসত্তাকে তিনি জাগ্রত করেছেন। আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছেন মহান স্বাধীনতার সংগ্রামে, মুক্তির সংগ্রামে। বঙ্গবন্ধুর জীবন তাই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে অভিন্ন ও একাত্ম। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও আমাদের স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা। বক্তারা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী। তিনি ছিলেন জনগণের পক্ষে। স্বাধীন মত প্রকাশের পক্ষে। শোষণ ও বঞ্চনার বিপক্ষে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খল ও শোষণ মুক্তির প্রবল আকাংক্ষাই ছিল তার সংগ্রামী জীবনের মূল কথা। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে চুয়ান্নর নির্বাচন, আটান্নর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান তার গণতান্ত্রিক চেতনা, শৃঙ্খল ও শোষণমুক্তির উদগ্র বাসনাকেই আমাদের সামনে তুলে ধরে।
তিনি তার ব্যক্তিসত্তাকে বাঙালি জাতিসত্তায় রূপান্তরিত করেছিলেন। নিজের স্বার্থকে জাতীয় স্বার্থে বিলীন করে দিয়েছিলেন। তাই তিনি পরিণত হয়েছিলেন বাংলার সব বর্ণের, সব ধর্মের, সব মানুষের এক অবিসংবাদিত নেতায়। তিনি পুরো দেশকে জাগিয়েছিলেন। তার কথায় বাঙালি উঠত-বসত। তার অংগুলিহেলনে সারা দেশ থমকে যেত। গাড়ির চাকা থেমে যেত। কোর্ট-কাছারি বন্ধ হয়ে যেত। তার কথায় বাঙালি কাঁদত-হাসত। তার জন্য মানুষ প্রার্থনা করত। তিনি ছিলেন বাঙালির এক মুকুটহীন সম্রাট। তাই তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু তাই অভিন্ন। একে অপরের পরিপূরক।
#

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *