১৬ ক্রাশার মালিককে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছে সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তর

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: পরিবেশ দূষণ ও অনুমতি ব্যাতিরেকে অবৈধভাবে নদীর পাড়ে পাথর ভাঙ্গা ও সরবরাহের কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সুনামগঞ্জ ও জামালগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ক্রাশার মেশিন মালিককে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৮ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ৭ ফেব্রুয়ারি সোমবার পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন ১৬টি পৃথক এনফোর্সমেন্ট মামলায় উক্ত জরিমানা ধার্য করেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ শহরতলীর আব্দুজ জহুর সেতুর নীচে সুরমা নদীর পশ্চিমপাড়ে পাথর ভাঙ্গা ও সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ৭ ক্রাশার মালিকও রয়েছেন। ক্রাশার মালিকরা হচ্ছেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের শহিদ আলম প্রোপাইটর জান্নাত এন্টারপ্রাইজ,কুতুবপুর গ্রামের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন প্রোপাইটর আলহামদুলিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ,মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রোপাইটর মেসার্স রুমা এন্টারপ্রাইজ,সুরমা ইউনিয়নের হুরারকান্দা গ্রামের মোঃ জাকির হোসেন প্রোপাইটর তাহমিনা এন্টারপ্রাইজ,বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের ভাদেরটেক গ্রামের কাউসার আহমদ প্রোপাইটর রহমান এন্ড ব্রাদার্স,আব্দুল হামিদ ও নবীর হোসেন প্রোপাইটর দুই বন্ধু ষ্টোন ক্রাশার,আব্দুল মান্নান,ওমর ফারুক ও রুশন আলীগং প্রোপাইটর মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ প্রমুখ। তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন লঙ্গনের দায়ে ইতিমধ্যে এনফোর্সমেন্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন,সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হালুয়ারঘাট মইনপুর এলাকায় নদীর দুই তীরে প্রায় ১২টি, জলিলপুর গ্রামে ৩টি, জগাইরগঁাও গ্রামে ২টি,মল্লিকপুর ওয়েজখালী এলাকায় ৩টি,অলির বাজার এলাকায় ১০টি ক্রাশার মেশিন রয়েছে। এসব ক্রাশার মেশিনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পাথর ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছে। অথচ পরিবেশ অধিদপ্তর শুধুমাত্র আমাদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে মামলা নিয়ে আমাদেরকে তলব করেছে। স্থানীয় লোকজন বলেন,উক্ত ক্রাশার মেশিনগুলোকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে ইজারাবিহীন ধোপাজান নদী বালিপাথর মহালের পাথর লুটতরাজকারীরা বেআইনীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। তাদের পরিচালিত ক্রাশার মেশিনগুলোতে প্রতিরাতে ট্রাক ট্রলি দ্বারা পাথর আনতে গিয়ে চোরাকারবারীরা ভেঙ্গে দিচ্ছে বিশ্বম্ভরপুর থেকে সুনামগঞ্জগামী এলজিইডি নির্মিত পাকা সড়ক। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ও হচ্ছে অবিরত। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ মাইদুল ইসলাম ১৬ জনের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,বিগত দিনগুলিতে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ও পৌর এলাকা সদরসমুহে পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স ব্যতিরেকে বিভিন্ন ক্রাশার মালিকরা বেআইনীভাবে পাথর ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। এতে সদাশয় সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি পরিবেশ বিপর্যয় রয়েছে অব্যাহত। আমরা পর্যায়ক্রমে সুনামগঞ্জের সকল ক্রাশার মালিকদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *