আজ ১৯শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩রা জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জেই চির নিদ্রায় শায়িত হলেন প্রবীন শাইখুল হাদীস আল্লামা শামসুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ার শাইখুল হাদীস, ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদের খতীব আল্লামা শামসুল ইসলাম সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টা ৫মিনিটে ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

মরহুমের জানাযা ৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় প্রিয় হুজুরের ছোট ছেলে মাওলানা মোহাম্মদের ইমামতিতে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ্ ময়দানে আগত সারা দেশের লাখো লাখো আলেমসমাজ ও কিশোরগঞ্জের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অংশগ্রহণে অনুৃষ্টিত হয়।

তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ১৯ জানুয়ারি তাঁকে প্রথমে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রথমে আজগর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি দীর্ঘ ১৯ দিন আইসিইউতে থাকার পর সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

ঢাকা থেকে মরহুমের লাশবাহী গাড়ী সন্ধার দিকে কিশোরগঞ্জের উদ্দ্যেশে রওয়ানা হয়ে রাত ১১টায় তার মরদেহ প্রথমে তার প্রিয় প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ায় আনা হয় এবং শেষ গোসল সম্পন্ন করে হাজার হাজার ভক্তকূলদের জন্য দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়। এবং রাতেই পরিবারের সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত হয় সকালে জানাজা শেষে উনার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে দেশের বাড়ি সিলেটে। জানাজা শেষে সিদ্ধান্ত এটাই বলবৎ থাকে, কিন্তু জানাযায় কিশোরগঞ্জবাসীর অংশগ্রহণ ও ভালোবাসার কাছে হেরে যায় উনার পরিবার। মুহূর্তের মধ্যেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন তার পরিবারের লোকজন, কিশোরগঞ্জেই রেখে দিতে চান সবার প্রিয় হুজুরকে। সাথে সাথে পরিবারের লোকজন সিলেট থেকে রওনা দেন কিশোরগঞ্জে শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে একবার দেখার জন্য। এক নজর দেখার পর সন্ধ্যার পূর্বমুহূর্তে সবার প্রিয় হুজুরকে অশ্রুভেজা চোখে সমাহিত করেন উনার ভালোবাসার আরেক প্রিয়জন আযহার আলী আনোয়ার শাহ্’র কবরের পাশে শোলাকিয়ার নূরানী মাদ্রাসা সংলগ্ন বাগে জান্নাত কবরস্থানে।

মরহুম শাইখুল হাদীস আল্লামা শামসুল ইসলাম একজন বিচক্ষণ ও বর্ষীয়ান আলেমদ্বীন। প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বের অধিকারী বিদগ্ধ আলেম আল্লামা শামসুল ইসলামের হাদীস শাস্ত্রের উপর বিশেষ দক্ষতা থাকায় আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ায় ১৯৮৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৭ বছর অত্যন্ত সুনামের সাথে পাঠদান দিয়ে আসছিলেন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে দ্বীনের প্রচারে তাঁর অসামান্য ভূমিকা রয়েছে। ফলে পুরো দেশেই তাঁর হাজারো ছাত্র ও ভক্ত রয়েছে।
এছাড়া আল্লামা শামসুল ইসলামের তাফসির শাস্ত্রেও অসামান্য দক্ষতা থাকায় ১৯৮৬ সাল থেকে ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদে প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় কোরাআনে পাকের তাফসির করে আসছিলেন।

জীবদ্দশায় তিনি সূরা ফাতেহা থেকে শুরু করে সূরা ইকরা পর্যন্ত তাফসির সম্পন্ন করেছেন। তার তাফসিরেও হাজারো মহিলা দ্বীনের পথে ফিরে এসেছেন।

এ জন্য কিশোরগঞ্জের আলেমসমাজ ও তৌহিদী জনতার মধ্যমণি হিসেবে সবাই তাঁকে সমীহ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category