মৃত্যুর রহস্য জানতে চাওয়া আমার অধিকার সংবাদ সম্মেলনে নিহত ভূমি কর্মকর্তা আতিকের কন্যা

নিজস্ব প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ আতিকুর রহমান (৪৬) এর মৃত্যু হত্যাকান্ড নাকি সড়ক দূর্ঘটনা জানতে সংবাদ সম্মেলন করেছে কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় এ্যালামনাই এসোসিয়েশন ও পরিবারের লোকজন।

১৩ ডিসেম্বর রনিবার সকাল ১১টায় গৌরাঙ্গ বাজার হোটেল শেরাটনের কনফারেন্স রুমে কিশোরগঞ্জ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় এ্যালামনাই ও এসএসসি ১৯৯০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এবং নিহতের পরিবারের লোকজনের অংশগ্রহণে ও জেলায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত সৈয়দ আতিকের মা মোছাঃ খায়রুন্নেছা বাসনা। বক্তব্য রাখেন ছোট ভাই সৈয়দ এহসানুল আদিল ও নিহত সৈয়দ আতিকের ৮ম শ্রেনী পড়ুয়া কন্যা সৈয়দা লিথিরা রহমান লিতু।
লিতু তার অশ্রুভেজা কন্ঠে জানায় আমার বাবার মৃত্যু নিছক সড়ক দুর্ঘটনা নাকি পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা জানতে চাওয়া আমার দাবি নয় এটা আমার অধিকার।

আরো বক্তব্য রাখেন, কিশোরগঞ্জ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় এ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আমিনুল ইসলাম হামীম নুফা, কামরুল ইসলাম উজ্জল,এক্সিম ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ দীদারুল আরেফিন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৬ ডিসেম্বর রবিবার নিহত সৈয়দ আতিকুর রহমান সকালে শহরের নগুয়া বাসা থেকে মোটরসাইকেলে করে একা কর্মস্থল ইটনা উপজেলার বাদলায় যাচ্ছিলেন। পথে করিমগঞ্জ উপজেলার মনসন্তোষ এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পরেন। পরে স্থানীয়রা সড়কে গুরুতর আহত অবস্থায় আতিককে উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আতিকের শরীরের কোন অংশে কাটা, ছিলাম বা ঘষা লাগার দাগ ছিল না মোটরসাইকেলটি যে চালাচ্ছিল সেটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে অনেকটা পথ দূরে গ্রামের মাটির রাস্তায় দাঁড় করানো অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে যেই মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে (কিশোরগঞ্জ-হ ১২-৬০১৭) পুরাতন চামটার ওয়াহিদের ছেলে সাইফুলের। চালকের সাথে থাকা শাহ আলম বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তারা আরও বলেন চালক সাইফুল বর্ণিত যে মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল সেটির মালিক বাদলা ইউনিয়নের রেজাউল করিমের। সৈয়দ আতিকুর রহমান (৪৬) এর মৃত্যু হত্যাকান্ড নাকি সড়ক দূর্ঘটনা জানতে চাই। সৈয়দ আতিকের ছোট ভাই সৈয়দ এহসানুল আদিল কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ভাইয়ের প্যান্টের বেল্ট খোলা অবস্থায় ভাইয়ের পাশেই পড়েছিল। কাঁধে একটি ব্যাগ ছিল বুকে পিঠে ক্রস বেলট দিয়ে ব্যাগটা শরীরে লাগানো ছিল ওই ব্যাগটা ও শরীর থেকে খোলা অবস্থায় পাশেই পড়েছিল। এই ব্যাগের ভিতর একটি স্টিলের টিফিন বাটি ছিল যার ভিতর দুপুরে খাওয়ার জন্য রুটি আর সবজি ছিল ওই স্টিলের টিফিন বাটিটা তে শক্ত কোন লাঠি বা রড দিয়ে বাড়ি দিলে যেভাবে বেঁকে যাবে বাটিটা ওই ভাবে বাকা অবস্থায় পাশে পড়ে থাকা ভাইয়ের ব্যাগের ভিতর পাওয়া গেছে। ভাইয়ের ব্যবহৃত হেলমেটটি টুকরা টুকরা হয়ে ভাঙা পাওয়া গেছে মাথায় লাগানো অবস্থায়, আর
কিছু অংশ ভেঙে মাটিতে পড়া ছিল। উপরে বর্ণিত বিষয়গুলোর আলোকে আমি এটাই বলতে চাই- একজন মানুষ মোটরসাইকেল থেকে যদি পড়েও যায় বা অ্যাক্সিডেন্ট করে তাহলে সামান্য হলেও তার শরীরে আঘাত থাকবে তার মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হবে যার কিছুই আমার ভাইয়ে সাথে হয়নি। কিন্তু তার মাথায় থাকা হেলমেট কিভাবে গুরা গুরা হলো….?? যদি হেলমেট গুরা গুরাই হবে তাহলে যেই লোক অ্যাক্সিডেন্ট করল তার শরীরে কেন কিছু হইলো না…?? যে গাড়ী নিয়ে এক্সিডেন্ট করলো সেই গাড়ীরই বা কেন কিছু হইলো না…??? কেন স্টিলের টিফিন বাটিতে মাঝখানে শক্ত কিছুর বাড়ীর দাগ পাওয়া গেল…?? তার পরনে থাকা বেলটি ই বা কেন খুলে পাশে পড়া ছিল, তার কাঁধে থাকা ব্যাগটাও কেন দূরে পড়া ছিল…?? পড়িশেষে বিশেষ করে প্রশাসনের কাছে বিনীত ভাবে সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। প্রশাসন সত্য বের করে আমাদের সহযোগিতা করবেন। আতিক ভাইয়ের মৃত্যু নিয়ে যে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে তার প্রকৃত সত্য উম্মোচনের জন্য উপস্থিত সকল সাংবাদিকদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
আপনাদের মাধ্যমে বিশেষ করে প্রশাসনের কাছে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার হিসেবে বিনীতভাবে সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। আমাদের বিশ্বাস প্রশাসন সত্য বের করে আমাদের সহযোগিতা করবেন ইনশাআল্লাহ।

এ ঘটনায় শহরের নগুয়া এলাকার সাবেক ইউপি সচিব সৈয়দ আবু সাঈদ বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামসহ আরও কতককে আসামী করে ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহনের আইনের ৯৯/১০৫ ধারামূলে (নং-১০(২৭২) তাং ৮/১২/২০২০ ইং মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় অপরদিকে প্রিয় সহকর্মী ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *