ভূমি উপ সহকারী কর্মকর্তা আতিকের মৃত্যু রহস্য জানতে চেয়ে সহপাঠীদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ আতিকুর রহমান (৪৬) এর মৃত্যু হত্যাকান্ড নাকি সড়ক দূর্ঘটনা জানতে মানববন্ধন করেছে তার স্কুল পড়ুয়া সহপাঠীরা।

১২ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ
মানববন্ধনের আয়োজন করে এসএসসি ১৯৯০ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
প্রায় দু’ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ শামসুল ইসলাম খান মাসুম, সৈয়দ আতিকের ছোট ভাই সৈয়দ এহসানুল আদিল, কিশোরগঞ্জ সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় এ্যালামনাই এসোসিয়েশনের হামীম নুফা, কামরুল ইসলাম উজ্জল, কিশোরগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল
অফিসার ডাঃ মোঃ মোশাররফ হোসেন খান, এক্সিম ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ দীদারুল আরেফিন, ইফতেখারুল আলম পারভেজ, কবি আবুল এহসান অপু, সাবেক কাউন্সিলর আফতাব উদ্দিন মিলন, অ্যাডভোকেট সমর কান্তি সরকার, ইটনার যুবলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম নান্নু, শাহীন মিয়া প্রমুখ।

প্রসঙ্গত গত ৬ ডিসেম্বর রবিবার নিহত সৈয়দ আতিকুর রহমান সকালে শহরের নগুয়া বাসা থেকে মোটরসাইকেলে করে একা কর্মস্থল ইটনা উপজেলার বাদলায় যাচ্ছিলেন। পথে করিমগঞ্জ উপজেলার মনসন্তোষ এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পরেন। পরে স্থানীয়রা সড়কে গুরুতর আহত অবস্থায় আতিককে উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নিহত আতিকের শরীরের কোন অংশে কাটা, ছিলাম বা ঘষা লাগার দাগ ছিল না। মোটরসাইকেলটি যে
চালাচ্ছিল সেটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে অনেকটা পথ দূরে গ্রামের মাটির রাস্তায় দাঁড় করানো অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে যেই মোটরসাইকেলটি পাওয়া গেছে (কিশোরগঞ্জ-হ ১২-৬০১৭) পুরাতন চামটার ওয়াহিদের ছেলে সাইফুলের। চালকের সাথে থাকা শাহ আলম বর্তমানে পলাতক
রয়েছে। তারা আরও বলেন চালক সাইফুল বর্ণিত যে মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল সেটির মালিক বাদলা ইউনিয়নের রেজাউল করিমের। সৈয়দ আতিকুর রহমান (৪৬) এর মৃত্যু হত্যাকান্ড নাকি সড়ক দূর্ঘটনা জানতে চাই।
সৈয়দ আতিকের ছোট ভাই সৈয়দ এহসানুল আদিল কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ভাইয়ের প্যান্টের বেল্ট খোলা অবস্থায় ভাইয়ের পাশেই পড়েছিল। কাঁধে একটি ব্যাগ ছিল
বুকে পিঠে ক্রস বেলট দিয়ে ব্যাগটা শরীরে লাগানো ছিল ওই ব্যাগটা ও শরীর থেকে খোলা অবস্থায় পাশেই পড়েছিল। এই ব্যাগের ভিতর একটি স্টিলের টিফিন বাটি ছিল যার ভিতর দুপুরে খাওয়ার জন্য রুটি আর সবজি ছিল ওই স্টিলের টিফিন বাটিটা তে শক্ত কোন লাঠি বা রড দিয়ে বাড়ি দিলে যেভাবে বেঁকে যাবে বাটিটা ওই ভাবে বাকা অবস্থায় পাশে পড়ে থাকা ভাইয়ের ব্যাগের ভিতর পাওয়া গেছে। ভাইয়ের ব্যবহৃত হেলমেটটি টুকরা টুকরা হয়ে ভাঙা পাওয়া গেছে মাথায় লাগানো অবস্থায়, আর
কিছু অংশ ভেঙে মাটিতে পড়া ছিল। উপরে বর্ণিত বিষয়গুলোর আলোকে আমি এটাই বলতে চাই- একজন মানুষ মোটরসাইকেল থেকে যদি পড়েও যায় বা অ্যাক্সিডেন্ট করে তাহলে সামান্য হলেও তার শরীরে আঘাত থাকবে তার মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হবে যার কিছুই আমার ভাইয়ে সাথে হয়নি। কিন্তু তার মাথায় থাকা
হেলমেট কিভাবে গুরা গুরা হলো….?? যদি হেলমেট গুরা গুরাই হবে তাহলে যেই লোক অ্যাক্সিডেন্ট করল তার শরীরে কেন কিছু হইলো
না…?? যে গাড়ী নিয়ে এক্সিডেন্ট করলো সেই গাড়ীরই বা কেন কিছু হইলো না…??? কেন স্টিলের টিফিন বাটিতে মাঝখানে শক্ত কিছুর বাড়ীর দাগ পাওয়া গেল…?? তার পরনে থাকা
বেলটি ই বা কেন খুলে পাশে পড়া ছিল, তার কাঁধে থাকা ব্যাগটাও কেন দূরে পড়া ছিল…?? পড়িশেষে বিশেষ করে প্রশাসনের কাছে বিনীত ভাবে সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। প্রশাসন সত্য বের করে আমাদের সহযোগিতা করবেন। আতিক ভাইয়ের মৃত্যু নিয়ে যে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে তার প্রকৃত সত্য উম্মোচনের দাবী জানাই ।

এ ঘটনায় শহরের নগুয়া এলাকার সাবেক ইউপি সচিব সৈয়দ আবু সাঈদ বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামসহ আরও কতককে আসামী করে ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহনের আইনের ৯৯/১০৫ ধারামূলে (নং-১০(২৭২) তাং ৮/১২/২০২০ ইং মামলা দায়ের করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *