কিশোরগঞ্জে ঈসা খানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িতে জাদুঘর নির্মাণে জমি অধি গ্রহণ প্রকল্পের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার সকালে জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সভায় মহাবীর ঈসা খানের স্মৃতিবিজড়িত জংগলবাড়ি উন্নয়ন এবং জাদুঘর নির্মাণের জমি অধি গ্রহণ প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সদস্য সচিব অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দুলাল চন্দ্র সুত্র ধর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকতার্ অর্ণব দত্ত, সিভিল সার্জন কাযার্লয়ের মেডিকেল অফিসার ডাঃ জহির আহমেদ তালুকদার, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক রাখী রায়, সহকারী পরিচালক মোঃ ছাদেকুজ্জামান, এলজিইডির নিবার্হী প্রকৌশলী এ.কে.এম. আমিরুজ্জামান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোঃ হাবেজ আহমেদ, গণপুর্ত বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী ইজাজ আহামদ খান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র মেমিষ্ট কাজী সুমন, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মোঃ হামাদ হোসেন, পাকুন্দিয়া পৌরসভার মেয়র মোঃ আক্তারুজ্জামান প্রমুখ।
জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির এ সভায় মহাবীর ঈসা খানের স্মৃতিবিজড়িত জংগলবাড়ি উন্নয়ন এবং জাদুঘর নির্মাণের জমি অধি গ্রহণ প্রকল্প উপস্থাপন করা হলে সকলেই সম্মতি জ্ঞাপন করায় তা অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়াও সভায় নদার্ন বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট এর আওতায় পাকুন্দিয়া উপজেলায় আবর্জনা ফেলার স্থান (ডাম্পিং স্টেশন) ও পল্লী সড়ক গুরুত্বপুর্ণ সেতু নিমার্ণ প্রকল্পের আওতায় কাদির জঙ্গল ইউপির হেডকোয়াটার্র-নীলগঞ্জ জিসি ভায়া হাত্রাপাড়া বাজার রোডের উপর ৩০০ মিটার দীর্ঘ সেতু নিমার্ণ প্রকল্পের অনুমোদিত হয়েছে।

জানা গেছে কিশোরগঞ্জবাসী দীর্ঘদিনের দাবির মুখে প্রতাপশালী বারো ভুঁইয়াদের নেতা ঈশা খাঁর স্মৃতি সংরক্ষণে একটি যাদুঘর নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ২১ কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এ বরাদ্দ পায়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব মো. হান্নান মিয়ার বরাত দিয়ে অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক রাখী রায় ও সহকারী পরিচালক মো. ছাদেকুজ্জামান অর্থ বরাদ্দের তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঈশা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত জঙ্গলবাড়িসহ এগারো সিন্দুর দুর্গ, আদি বাংলা কবি চন্দ্রাবতীর মঠ, ভৈরব ও কুলিয়ারচরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহ পরিদর্শন করেন। পরে ঈশা খাঁর স্মৃতি বিজড়িত ও সংরক্ষিত পুরাকীর্তি সমূহকে কেন্দ্র করে জঙ্গলবাড়িতেই “ঈশা খাঁ স্মৃতি যাদুঘর” গড়ে তোলার জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে ডিজিটাল সার্ভে করে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তাব দেয়। একইসঙ্গে জেলার সংরক্ষিত প্রত্নস্থলের উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করলে এ বরাদ্দ পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *